ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করবে জামায়াত জোট
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:১৬:০১ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি জোট। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নির্বাচিত এমপিদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর বিপরীতে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কথা জানালেন জামায়াত জোটের কয়েকজন শীর্ষনেতা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সুনামগঞ্জ- ২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট শিশির মনিরসহ বেশ কয়েকজন এই জোটের কয়েকজন নেতা বিকল্প ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কথা জানিয়েছেন।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ফেসবুকের এক পোস্টে আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং সার্বিক কার্যক্রমে ওয়াচডগ হিসেবে কাজ করবে ছায়া মন্ত্রিসভা। সুনামগঞ্জ- ২ (দিরাই শাল্লা) আসন থেকে নির্বাচন করে হেরে যাওয়া জামায়াত ইসলামীর আলোচিত প্রার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনিরও ছায়া মন্ত্রিপরিষদ গঠনের কথা জানিয়েছেন। রোববার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া পোস্টে বলেন, রাজনীতিতে নতুনত্ব আনুন। সরকারিদল মন্ত্রিসভা গঠন করুক। বিরোধীদল ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করুক। সংসদের ভিতরে-বাহিরে তুমুল বিতর্ক হোক। তবেই সৃষ্টিশীল নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। এর আগে, শনিবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, আমরা ছায়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন করব ইনশাআল্লাহ। এ ছাড়া ঢাকা-১৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য (এমপি) ও জামায়াত নেতা মীর আহমেদ বিন কাসেম (আরমান) তার ফেসবুক পোস্টেও ছায়া মন্ত্রিপরিষদ গঠনের কথা জানিয়েছেন।
‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ কী, এটি কতটুকু কার্যকর : দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে হঠাৎ আলোচনায় এসেছে ‘শ্যাডো ক্যাবিনেট’ বা ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’। বিএনপির সরকার গঠনের প্রাক্কালে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতাদের ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের ঘোষণায় এই আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকের প্রশ্ন, ছায়া মন্ত্রিসভা কী? সংসদীয় গণতন্ত্রে এটি আসলে কতটুকু কার্যকর?
ছায়া মন্ত্রিসভা আসলে কী? দেশের রাজনীতিতে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ হতে পারে নতুন গণতান্ত্রিক চর্চা। সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ ভূমিকা রাখতে পারে। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘শ্যাডো ক্যাবিনেট’ হলো জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে বিরোধী দলের নেতার নির্বাচিত একটি টিম, যারা সরকারে থাকা মন্ত্রিসভার সমান্তরালে দায়িত্ব পালন করেন। শ্যাডো ক্যাবিনেটের প্রতিটি সদস্যকে দলের পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট নীতিখাতের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং তিনি সেই খাতের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ও চ্যালেঞ্জ করেন। এভাবে সরকারি বিরোধী দল নিজেদের বিকল্প ‘অপেক্ষমাণ সরকার’ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শ্যাডো ক্যাবিনেট শুধু সমালোচনার একটি হাতিয়ার নয়। এটি বিরোধী দলের নেতাদের জন্য এক ধরনের প্রশিক্ষণ ক্ষেত্র হিসেবেও কাজ করে, যেখানে দলীয় সদস্যরা প্রশাসনিক কাঠামো, বাজেট এবং নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন—যা ভবিষ্যতে সরকার গঠনের জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করে।
এ পদ্ধতি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত যুক্তরাজ্যভিত্তিক ওয়েস্টমিনস্টার ধারার গণতন্ত্রে। দেশটির শ্যাডো ক্যাবিনেট নিয়মিতভাবে সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এবং সংসদে মন্ত্রীদের প্রশ্নের মুখোমুখি করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। একইভাবে অস্ট্রেলিয়াতেও শ্যাডো ক্যাবিনেট সরকারি সিদ্ধান্তসমূহ পর্যালোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট : বাংলাদেশের সংবিধানে ছায়া মন্ত্রিসভা নিয়ে কোনো বিধান নেই। ফলে এটি পুরোপুরি রাজনৈতিক দলের উদ্যোগের ওপর নির্ভরশীল। অতীতে বিভিন্ন সময়ে বড় রাজনৈতিক দলগুলো বিরোধী দলে থাকাকালে অনানুষ্ঠানিকভাবে কিছু নেতাকে নির্দিষ্ট খাতভিত্তিক দায়িত্ব দিলেও তা স্থায়ী বা সুসংগঠিত কাঠামো পায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ বর্জনের সংস্কৃতি, তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং সংসদীয় চর্চার সীমাবদ্ধতার কারণে এ ব্যবস্থা কার্যকর রূপ পায়নি। বশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে যদি সংসদীয় সংস্কৃতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও অংশগ্রহণমূলক হয়, তবে ছায়া মন্ত্রিসভা কার্যকর একটি রাজনৈতিক অনুশীলনে পরিণত হতে পারে। তবে তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও পারস্পরিক আস্থার ওপর। ছায়া মন্ত্রিসভা- বাংলাদেশে এখনও একটি ধারণা, তবে গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার হলে এটি বাস্তব কাঠামোতেও রূপ নিতে পারে।





