কোদালী খাল শুকিয়ে যাওয়ায় বিপন্ন কৃষি ও পরিবেশ
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:২৫:০১ অপরাহ্ন

এখলাছুর রহমান, জকিগঞ্জ: জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউনিয়ন-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক জলাধার কোদালী খাল বর্তমানে সম্পূর্ণ শুকিয়ে বিরাণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। একসময় বর্ষা মৌসুমে এই খাল দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করত এবং অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত সংস্কারের অভাব, প্রাকৃতিক জলপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা ও বিভিন্ন কারণে খালটি ধীরে ধীরে তার স্বাভাবিক নাব্যতা ও কার্যকারিতা হারিয়েছে। বর্তমানে খালের অধিকাংশ অংশে পানির কোনো অস্তিত্ব নেই, ফলে খালজুড়ে দেখা দিয়েছে চরম শুষ্কতা।
খাল শুকিয়ে যাওয়ার ফলে এলাকায় বহুমুখী ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সেচের পানির তীব্র সংকটে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং বহু জমিতে সময়মতো চাষাবাদ সম্ভব হচ্ছে না। মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর আবাস ধ্বংস হয়ে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে খালের পানি ধারণ ও নিষ্কাশন ক্ষমতা কমে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়বে। অপরদিকে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট জনজীবন ও কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে।
এলাকাবাসী এ পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কোদালী খালসংলগ্ন এলাকার কৃষক আরজ আলী জানান, আগে খাল থেকেই সহজে সেচের পানি পাওয়া যেত। এখন খাল শুকিয়ে যাওয়ায় বাড়তি খরচ করে বিকল্প উপায়ে সেচ দিতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে এবং কৃষকের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, কোদালী খালের বর্তমান অবস্থা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে কৃষিনির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকায় দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিলেট-এর এসও মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, আমরা নাব্যতা হারানো সিলেটের সকল খালের বিষয়ে তৎপর আছি। শিগগিরই কোনো সুখবর দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছি।
বারহাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের পাড়ের প্রায় দশ হাজার একর জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে কোদালী খালের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করবে এবং কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেবে।





