ক্যাম্পাসে ‘নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘনে আপত্তি’ : স্কলার্সহোমের শিক্ষক বহিস্কার!
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:১২:২৫ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা চলাকালে আচরণবিধি লংঘন করে ক্যাম্পাসের ভেতরে নির্বাচনী প্রচারে আপত্তি করায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কলার্সহোম-এর এক শিক্ষককে বরখাস্তের অভিযোগ উঠেছে। বহিস্কৃত শিক্ষক নিজেই এই অভিযোগ করেছেন। তবে এ ব্যাপারে স্কলার্সহোম কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। বরখাস্তকৃত শিক্ষক মো. নিয়াজ উদ্দিন স্কলার্সহোম শাহী ঈদগাহ ক্যাম্পাসের রিলিজিয়াস স্টাডিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্স বিভাগের প্রভাষক ছিলেন।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ওই প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল লেঃ কঃ (অব.) মুনির আহমেদ কাদেরী স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে প্রভাষক রিয়াজকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
নিজেকে বরখাস্তের তথ্য জানিয়ে রিয়াজ আহমদ ফেসবুকে লিখেন- ‘আমাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে আজ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠান স্কলার্সহোম থেকে। নির্বাচনের ৩ দিন আগে স্কলার্সহোমের টিচারদের বোকা বানিয়ে সিলেট-১ এর এমপি মুক্তাদীর সাহেবকে প্রচারের সুযোগ করে দেয়া হয় শিক্ষকদের মাঝে। সেই টিচাররা এই আসনের নির্বাচনী দায়িত্বে ছিলেন। যেটা নির্বাচনী আচরণবিধি ও রাষ্ট্রিয় আইনের পরিপন্থী। আমি সেই ঘটনার প্রতিবাদ করি সাথেসাথে। আজকে আমাকে এ ঘটনার জের ধরে সাসপেন্ড করা হয়েছে। নিয়াজ উদ্দিন জানান, তিনি ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে স্কলার্সহোমের শাহী ইদগাহ শাখায় শিক্ষকতায় যুক্ত রয়েছেন।
এ ব্যাপারে ঐ শিক্ষক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সার্থে আচরণবিধি লংঘনের আপত্তি জানিয়েছিলাম। কিন্তু এর বিনিময়ে প্রতিষ্ঠান আমাকে বরখাস্ত করেছে। আমি এ বিষয়ে মঙ্গলবার সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মাসুদ রানা বরাবরে লিখিত আবেদন করেছি। তিনি আমার বক্তব্য শুনেছেন। এবার চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।
এব্যাপারে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মাসুদ রানার সাথে বলেন, প্রভাষক নিয়াজ উদ্দিন লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং তদন্তসাপেক্ষে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে স্কলার্সহোমের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মুনীর আহমেদ কাদেরী (অব.)-এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, স্কলার্সহোম হাফিজ আহমদ মজুমদার ট্রাস্ট পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। হাফিজ আহমদ আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য ছিলেন।




