নিত্যপণ্যের দাম উর্ধ্বমুখী
প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৩৭:৫৮ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার: রোজার প্রস্তুতিতে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে রমজানের আগের দিন বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) নগরীর গ্রোসারী শপ, সুপার শপ ও নিত্যপণ্যের বাজারে ক্রেতাদের ঢল নেমেছিল। বিশেষ করে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল, এঙ্কর ডাল, পেঁয়াজ, আটা, খেজুর ও মাছ-মাংস ক্রয়ে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। অন্যদিকে পবিত্র মাহে রমজানের একদিন আগে কাঁচাবাজার ও নিত্যপণ্যের দোকানে হঠাৎ করেই বেড়েছে দাম। অনেক পণ্যের দাম বাড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
বিক্রেতারা জানান, রমজানকে ঘিরে পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারেই পণ্যের দাম বেশি থাকায় খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ছে। এছাড়া পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও আমদানিনির্ভর পণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতিও বাজার অস্থিরতার অন্যতম কারণ।
অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, হঠাৎ করেই দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে রমজানের বাজার সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত লাভের আশায় দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
সরেজমিনে নগরীর বন্দরবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বুধবার দুপুর থেকেই কালীঘাট ও বন্দরবাজারের পাইকারি গ্রোসারী শপে ক্রেতাদের ভিড় লেগে যায়। বিভিন্ন প্রকার মসলা, ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল, এঙ্কর ডাল, পেঁয়াজ, আটা ও খেজুর কিনতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন ক্রেতারা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত বছরের চেয়ে কিছুটা কমে ছোলা কোয়ালিটি ভেদে ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে মসুর ডালের ক্ষেত্রে চিত্র ভিন্ন। গত বছর রোজার একদিন আগে, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে ছোট দানার মসুর ডাল প্রতি কেজি ১৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি বাজারে একই ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়। অর্থাৎ কেজিতে বেড়েছে ৫ থেকে ১৫ টাকা। মোটা দানার মসুর ডালের দাম আরও বেশি বেড়েছে। গত বছর যা ছিল ৮০ টাকা, এখন তা ১০০ টাকায় উঠেছে।
রোজার ঠিক আগ মুহূর্তে আটা, সয়াবিন তেল ও পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী। গত বছর রমজানের আগে দুই কেজির প্যাকেট আটা বিক্রি হয়েছিল ১০০ টাকায়। এ বছর তা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। প্রতি লিটার ১৭৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৯৫ টাকা। পেঁয়াজের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা। গত বছর রোজার একদিন আগে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এখন রোজা শুরুর আগেই ৬০-৮০ টাকায় পৌঁছেছে।
নগরীর খুচরা বাজারে দেখা গেছে, গত বছর রোজার একদিন আগে চিনি বিক্রি হয়েছিল প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৪৫ টাকায়। চলতি বছরে একই সময়ে তা পাওয়া যাচ্ছে ১০০ থেকে ১১৫ টাকায়। অর্থাৎ কেজিতে কমেছে সর্বনিম্ন ১০ টাকা, সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা পর্যন্ত। দেশি রসুনের দামও কমেছে। গত বছর প্রতি কেজি ১৫০ টাকা থাকলেও এখন তা ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে আমদানি করা রসুন ১৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ডিমের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। ডজনপ্রতি দাম ১৪০ টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১২০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা উর্ধ্বমুখী রয়েছে। ব্রয়লার মুরগী প্রতি কেজি ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রমজানের আগ মুহুর্তে কাঁচা বাজারে সবজির দাম বেড়েছে। গোল কালো বেগুন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০ টাকায়। শিম ৪০-৫০ টাকায়, ব্রকলি প্রতি পিস ৮০-১০০ টাকা, ফুল কপি প্রতি কেজি ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লেবুর বাজারে আবারও দেখা গেছে হঠাৎ লাফ। কয়েকদিনের ব্যবধানে হালিপ্রতি দাম ২০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকায় পৌঁছেছে। বর্তমানে বড় সাইজের লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। কাঁচামরিচের দাম আরও বেশি বেড়েছে। গত বছর রমজানের শুরুতে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। বর্তমানে বাজারে ২০০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে কাঁচামরিচ।
রমজানকে সামনে রেখে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে। দুই সপ্তাহ আগেও এ মুরগি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ১৮৫-১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালী মুরগি কিছুদিন আগে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হলেও রোজা শুরুর আগেই তা ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকায় পৌঁছেছে। গরুর মাংসের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি রয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়। গত বছর রোজার আগে একই পণ্য পাওয়া যেত ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায়। অর্থাৎ কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা পর্যন্ত। তবে খাসির মাংসে বড় পরিবর্তন নেই। গত বছরের মতোই প্রতি কেজি ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রমজান ঘিরে খেজুরের বাজারেও দেখা যাচ্ছে মূল্যবৃদ্ধির চিত্র। যদিও ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে গত বছরের মতো এবারও শুল্কহার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামানো হয়েছে, তবুও খুচরা বাজারে দাম কমেনি। বরং বেশিরভাগ জনপ্রিয় খেজুরেই বেড়েছে দর।





