প্রথম দিনে নানা সিদ্ধান্ত : নতুন সরকারের তিন অগ্রাধিকার
প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২১:৫২ অপরাহ্ন
১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা

জালালাবাদ রিপোর্ট : প্রথম দিন পার করলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি জোটের নবগঠিত সরকার। শুরুর দিনেই ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই বিশেষ কর্মপরিকল্পনা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই পরিকল্পনা অনুযায়ী কোন মন্ত্রণালয় কী কাজ করবে, তা দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এছাড়া নতুন সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে তিনটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে সেগুলো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অগ্রাধিকার তিনটি হলো দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রথম মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন।
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা জানেন, প্রত্যেকটা সরকার প্রথম ১০০ দিনের একটি কর্মসূচি নেয়। আমাদের সরকার সেই কর্মসূচিটি একটু বৃহত্তর পরিসরে ১৮০ দিনের জন্য গ্রহণ করবে। এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং শিগগিরই বিস্তারিত জানানো হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী সচিবদের উদ্দেশে বলেছেন, আমাদের ইশতেহারের ওপর জনগণ আস্থা রেখেছে। তাই যথাযথ সময়ে যথাযথভাবে এই ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে হবে।
অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, প্রথম মন্ত্রিপরিষদের সভায় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কাল থেকে রমজান শুরু। দ্রব্যমুল্য, আইন শৃঙ্খলা, বিদ্যুৎ জ্বালানি সবক্ষেত্রেই জনগনকে স্বস্তি দেওয়ার জন্য যার যার জায়গা থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনাটি খুব দ্রুত মন্ত্রিপরিষদের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, জনগণের জন্য প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয় কীভাবে কাজ করবে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। বিএনপি মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেগুলো মনে রেখে মন্ত্রণালয়গুলোকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের সবাইকে পরামর্শ দিয়েছেন। রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ রাখা এই মুহূর্তের প্রধান অগ্রাধিকার। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, ইফতার তারাবিতে যেন কোনো কষ্ট না হয়।’
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা তাদের কর্মপরিকল্পনা দু-একদিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী আমরা আমাদের পদক্ষেপ গ্রহণ করব। তথ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্র মেরামতের জন্য ৩১ দফা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন। এই কর্মসূচি শুধু বিএনপির ছিল না, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সকল দল এর সঙ্গে যুক্ত ছিল। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ১৮০ দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী ১৮০ দিনের পরিকল্পনার পাশাপাশি রমজান মাসে জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার জন্য পুরো প্রশাসনকে সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া দ্রুত ফ্যামিলি কার্ড চালু করার বিষয়ে প্রস্তুতি নিতেও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কার্যদিবসে বুধবার বেলা ১২টা ৩৫ মিনিটে সচিবালয়ে যান তারেক রহমান। তিনি সচিবালয়ের এক নম্বর ভবনে তার নিজের দপ্তরে পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীরা সচিবালয়ে যান। পরে তাদের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যেতে দেখা যায়।
নতুন মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তরের বাইরে নাম ফলক লাগানো হয়েছে। একই সাথে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী কর্মকর্তারা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের ফুল দিয়েও অভিনন্দন জানাচ্ছেন।সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তার জালে ঢেকে রাখা হয়েছে সচিবালয়। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টিকে সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের তৎপরতা লক্ষ্য করে গেছে। এছাড়া এদিন সচিবালয়ে প্রবেশও সীমিত করা হয়েছে।
এর আগে বেলা ১১টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়েও সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর সরকারপ্রধান সেখানে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি পরিদর্শন বইয়ে সই করেন।




