নগরে বাহারি ইফতারির পসরা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২০:১৪ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : শুরু হয়েছে সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র মাহে রমজান। পবিত্র রমজান উপলক্ষে নিয়মিত খাবারের পাশাপাশি বিশেষ ইফতারি পরিবেশন করছে নগরীর রেস্তোরাঁগুলো। তবে বাহারি এসব ইফতারির দাম কিছুটা চড়া বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। রোজার প্রথম দিনেই গতকাল বৃহস্পতিবার সিলেট নগরীর রেস্তোরাঁগুলোয় মুখরোচক ইফতারসামগ্রী কিনতে রোজাদারদের ভিড় ছিল।
রেস্তোরাঁর মালিকেরা বলছেন, ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে অনেক পণ্যের দাম আগের বছরের মতোই আছে। তবে মুরগি ও খাসির মাংসের দাম বাড়ায় মাংস দিয়ে তৈরি খাদ্যসামগ্রীর দাম বাড়াতে হয়েছে। এদিকে নামীদামি রেস্তোরাঁর পাশাপাশি নগরের বিভিন্ন এলাকার ফুটপাতেও রোজা উপলক্ষে ইফতারসামগ্রীর দোকান বসেছে। এসব দোকানেও মিলছে বাহারি ইফতারসামগ্রী।
ক্রেতারা বলছেন, এসব ইফতারসামগ্রী খেতে সুস্বাদু হলেও বেশির ভাগ মানুষের পক্ষে এগুলো কেনা সম্ভব হয় না। তাই ছোলা, পেঁয়াজি আর বেগুনির মতো সাধারণ খাদ্যসামগ্রীর চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
নগরীর পানসি, পাঁচ ভাই, আলপাইন, ইস্টিকুটুম, মেহমান, উৎসব, সাফরন, পালকি রেস্তোরাঁ ও ফুলকলি, বনফুল, ফিজাসহ বিভিন্ন মিষ্টিজাত পণ্যের দোকান ঘুরে দেখা যায়, সেখানে মুখরোচক ইফতারির কেনাবেচা চলছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩০০-৩৫০, আলুর চপ আর বেগুনির দাম ২০ টাকা। টিক্কা কাবাব ও জালি কাবাব বিক্রি হচ্ছে যথাক্রমে ৫০ টাকা ও ৬০ টাকায়। এ ছাড়া আস্ত মুরগির রোস্ট ৬০০ টাকা ও খাসির লেগ রোস্ট ৮০০ টাকা। সমাজের উচ্চ বিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষই এসব ইফতারির প্রধান ক্রেতা।
এসব রেস্টুরেন্টে সাধারণ পাকুড়া, আলুর চপ ও বেগুনি মাত্র ১০ টাকায় মিলছে, পাশাপাশি মরিচ ফ্রাই ৫ টাকা, ডিম চপ ২০ টাকা, ডিম টোস্ট ৩০ টাকা, বেগুন টোস্ট ও পাম্পকিন টোস্ট ১৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। চিকেন সিংগারা ও চিকেন সমুচা ১৫ টাকা, ঝালি কাবাব ৩০ টাকা, চিকেন কাটলেট ৩০ টাকা এবং বোনলেস চিকেন ফ্রাইও ৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। চিকেন ফ্রাই ১৩০ টাকা, আর চিকেন স্টিক ৪০ ও ৮০—দুই দামে বিক্রি হচ্ছে। রোল, নান ও পরোটার মধ্যেও রয়েছে নানা আয়োজন। সবজি রোল ৩০ টাকা, চিকেন রোল ৪০ টাকা, চিকেন শরমা ৮০ টাকা। প্লেন পরোটা ৩০ টাকা, চিকেন পরোটা ৭০ টাকা, দুধ নান ৭০ টাকা, বাটার নান ৪০ টাকা এবং চিকেন নান ৮০ টাকায় মিলছে। এছাড়া চিকেন আস্থন ২৫ টাকা ও চিকেন সাসলিক ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। গ্রিল ও রোস্ট আইটেমে রয়েছে আভিজাত্যের ছোঁয়া। লেগ রোস্ট ৩২০ টাকা, আস্ত লেগ রোস্ট ৮০০ টাকা, চিকেন গ্রিল ফুল ৪৮০ টাকা, চিকেন আলফাহাম ৫২০ টাকা, কোয়েল রোস্ট ১২০ টাকা, কবুতর রোস্ট ৩০০ টাকা এবং আস্ত চিকেন রোস্ট ৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিষ্টান্নেও কমতি নেই। দই-চিড়া প্রতি বাটি ১০০ টাকা, ফালুদা ছোট বাটি ১২০ টাকা এবং বড় বাটি ৫০০ টাকা। রেশমি জিলাপি ৫০০ টাকা কেজি এবং সাধারণ জিলাপি ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পানীয়ের মধ্যে বোরহানি প্রতি লিটার ২০০ টাকা, হাফ লিটার ১০০ টাকা এবং ঐতিহ্যবাহী লাবাং প্রতি লিটার ২৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ছোলাবুট প্রতি কেজি ২৪০ টাকা।
নামিদামি রেস্তোরাঁ ছাড়াও নগরীর বিভিন্ন ফুটপাতেও বসেছে বিশেষ ইফতারির বাজার। তবে সেখানে পেঁয়াজু, বেগুনি আর আলুর চপের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা করে। এসব ইফতারির বাজারে সমাজের হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষজন ইফতার করছেন।
বেলাল উদ্দিন নামের একজন ক্রেতা বলেন, আমাদের মতো সীমিত আয়ের মানুষের পক্ষে এত বাহারি খাদ্যসামগ্রী রোজ রোজ কেনা সম্ভব নয়। হয়তো শখ করে এক-দুবার কেনা হয়। একটি রেস্তোরাঁর পরিচালক আবু সাদ বলেন, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনা করে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই প্রথম রোজাতেই ক্রেতার ভালো সাড়া মিলেছে। একটি রেস্তোরাঁর বিক্রেতা মো. জালাল বলেন, সব ধরনের কাস্টমারের (ক্রেতা) কথা ভেবেই আমরা ব্যবসা করি। যে কারণে খুব বেশি দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই।





