সুনামগঞ্জে লাগামহীন দ্রব্যমূল্যে বিপাকে ক্রেতারা
প্রকাশিত হয়েছে : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:৪৩:৩৮ অপরাহ্ন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জে হু হু করে বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম। রমজান মাসকে ঘিরে দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। শহরের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পৌর শহরে পেঁয়াজ, রসুন, শসা, লেবু ও গাজরসহ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। শসা এবং গাজরের দাম প্রতি কেজি দ্বিগুণ বেড়েছে। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি শসা ৪০ টাকায় এবং গাজর প্রতি কেজি ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি শসা ৮০ টাকা এবং গাজর ৮০/৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
দেশি পেঁয়াজের কেজিতে ১২/১৩ টাকা বেড়ে প্রকারভেদে ৫৫/৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রসুন কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি দেশী রসুন ১৩০ টাকা ও চায়না রসুন কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে মানভেদে ১৭০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন-পরিবহন সমস্যা, চাহিদা বৃদ্ধি এবং আমদানি কম থাকায় পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচামরিচসহ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহরের জেল রোড এলাকার পাইকারি সবজি বাজার, খুচরা সবজি বাজার এবং কিচেন মার্কেটে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়। রমজানকে সামনে রেখে পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি করে বাজার করছেন অনেকেই। কেউ কেউ পুরো রমজানের বাজার একসাথে করছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজানের কারণে দামটা বেড়ে যায়।
বাজার করতে আসা সিরাজ বলেন, দুই কেজি শসা ৮০ টাকা কেজি দরে ১৬০ টাকায়, ধনিয়া পাতা প্রতি কেজি ৪০ টাকা, গাজর ৬০ টাকা কেজি দরে কিনেছি। তিনি বলেন, এক সপ্তাহ আগে এর চেয়ে অর্ধেক দামে কিনেছি। হঠাৎ করে দাম দ্বিগুণ হয়েছে। রমজান মাস এলেই দাম বাড়ে। এ বিষয়ে সরকারের নজরদারি বাড়াতে হবে।
এদিকে, শহরে বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে প্রতি কেজি টমেটো প্রকার ভেদে ৩০/৪০, ফুলকপি ৩০/৪০/৫০, বাঁধাকপি ৩০, বেগুন ৫০/৬০, শিম ২০/৩০/৪০, শিমের বিচি ৯০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ৬০/১০০ ও কাঁচা মরিচ ১৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারে প্রতি কেজি রুই মাছ ৩০০ থেকে ৩৫০, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০-৬০০, পাঙাশ ২০০, তেলাপিয়া ১৮০/২০০ টাকা, দেশি শিং ৫০০/৭০০ টাকা, টেংরা প্রকারভেদে ৪০০/৭০০, তেড়া বাইম ৪০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের বাজারে প্রতি কেজি হাড়সহ গরুর মাংস ৭৫০ টাকা ও হাড় ছাড়া গরুর মাংস ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০, সোনালি মুরগি ৩০০ ও দেশি মুরগি ৬০০/৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি ডজন ফার্মের লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়। হাঁসের ডিম প্রতি হালি প্রকার ভেদে ৬৫/৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সুমন মিয়া বলেন, রমজান মাসে প্রত্যেকেই বেশি করে বাজার করছেন। চাহিদার তুলনায় আমদানি কম থাকায় দামটা বেড়েছে। তিন/ চারদিনের মধ্যে পেঁয়াজ, রসুন সহ নিত্যপণ্যের দাম কমে আসবে।
জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুসারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। রমজানকে সামনে রেখে প্রতিদিনই তদারকি করা হবে। কেউ যদি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্য সামগ্রী বেশি দামে বিক্রি করতে চায় ও প্রমাণিত হয় তাহলে আমরা ব্যবস্থা নেব।





