সিলেটে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন
প্রকাশিত হয়েছে : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:৫১:১২ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : যথাযোগ্য মর্যাদায় সিলেটে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়েছে । একুশের প্রথম প্রহরেই জেলা-উপজেলায় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষার অধিকারের জন্য জীবন উৎসর্গ করা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন মানুষ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ফুল হাতে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ছুটে যান শহীদ মিনারে।
এ ছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন,উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সমাজিক, পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পৃথকভাবে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসুচীর আয়োজন করেছে। এ দিকে দিবসের কর্মসূচি নির্বিঘ্নে পালন করতে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও আশপাশ এলাকা নিরাপত্তা জোরদারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ছিলো লক্ষণীয়।
সিলেটে অবস্থানরত প্রবাসীকল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন, সিলেট প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন, বিএনপি, এনসিপিসহ রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানান।
এ সময় ‘আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কী ভুলিতে পারি’ গানের সুর ছড়িয়ে পড়ে সিলেটের শহীদ মিনারের চত্বরজুড়ে।
এদিকে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী নানা আয়োজনে সিলেটে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণীর আয়োজন করে সিলেট জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো: সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার খান মো: রেজা-উন-নবী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি মো: আনোয়ারুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেলুর রহমান, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস শহিদ খান ও আবৃত্তি শিল্পী সাহেল আহমদ খসরু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বাংলা ভাষার স্রষ্টা ও সাহিত্য সাধকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ‘বাংলা ভাষা আজ দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। প্রমিত ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে বাংলা অ্যাকাডেমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ভাষার সক্রিয়তা ও বিশুদ্ধতা রক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহারে নানা সাহিত্যকর্ম সৃষ্টি হলেও ভাষার শুদ্ধতা ও স্বকীয়তা অক্ষুণ্ণ রাখতে সকলকে সচেতন থাকতে হবে। এক সময় সংস্কৃত ও সাধু ভাষার প্রচলন থাকলেও ভাষাকে সহজ ও প্রাঞ্জল করতে চলিত রূপের ব্যবহার শুরু হয়। বর্তমানে অফিস-আদালতসহ সর্বত্র প্রমিত চলিত ভাষার ব্যবহার বাড়ছে, যা বাংলা ভাষার বিকাশে সহায়ক।’
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘বাংলা ভাষার প্রধান দূত হচ্ছি আমরা বাঙালিরা। পৃথিবীর যে প্রান্তেই যাই না কেন, বাংলা ভাষার ব্যবহার অব্যাহত রাখতে হবে। দেশের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আন্তর্জাতিক মিশনে কর্মরত সদস্যরা বাংলা ভাষাকে প্রাধান্য দিয়ে আসছেন। বিদেশীর মুখে অস্পষ্টভাবে হলেও বাংলা ভাষা শুনতে পাওয়া আমাদের জন্য গর্ব ও আনন্দের বিষয়।’
ভাষার প্রতি আমাদের আবেগ, আত্মত্যাগ ও সৃজনশীল ঐতিহ্যই এ ভাষাকে চিরস্থায়ী করে রাখবে উল্লেখ করে ভাষার জন্য রাজপথে জীবনদানকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি জীবনের সব ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বলেন, ‘মায়ের ভাষায় মনের ভাব প্রকাশের যে আবেগ, তা অন্য কোনো ভাষায় পাওয়া যায় না। মাতৃভাষা টিকিয়ে রাখতে সর্বক্ষেত্রে ভাষার প্রয়োগ বাড়াতে হবে এবং প্রমিত উচ্চারণ চর্চা জোরদার করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘কেবল ভিনদেশী ভাষা সুন্দরভাবে বলা স্মার্টনেস নয়; মাতৃভাষা সঠিকভাবে বলতে পারাও স্মার্টনেসের পরিচায়ক। শিশুদের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই সঠিক বাংলা উচ্চারণ শেখাতে হবে।’
অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দফতরের প্রতিনিধিবৃন্দ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।




