১২ মার্চ প্রথম অধিবেশন আহবান : সংসদে প্রাণবন্ত বিতর্কের অপেক্ষা
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:২৪:৪৯ অপরাহ্ন
জালালাবাদ রিপোর্ট : একটি আকাঙ্খিত নির্বাচনের পর নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। যাত্রা শুরু হয়েছে একটি নতুন বাংলাদেশেরও। এবার সরকারের যেমন সুদৃঢ় অবস্থান রয়েছে, তেমনি রয়েছে একটি শক্তিশালী বিরোধী দলও। ফলে একটি প্রাণবন্ত সংসদের অপেক্ষায় গোটা দেশ।
সেই জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে বেলা ১১টায় এদিন অধিবেশন শুরু হবে।
সোমবার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম (২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের প্রথম) অধিবেশন আহ্বান করেছেন।
রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই অধিবেশন আহ্বান করেছেন। প্রথা অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও আগামীর পরিকল্পনা তুলে ধরে ভাষণ দেন। এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
জানা গেছে, ১২ মার্চের অধিবেশনে নির্বাচিত করা হবে ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার। তবে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পূর্ববর্তী দ্বাদশ সংসদের স্পিকার পদত্যাগ করায় এবং ডেপুটি স্পিকার কারান্তরীণ থাকায় এ নিয়ে এক ধরনের সাংবিধানিক জটিলতা দেখা দিয়েছে।
যদিও সংসদের প্রথম অধিবেশনে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
সংবিধান ও জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী পূর্ববর্তী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের নতুন সরকারের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার কথা। তবে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে কে প্রথম অধিবেশন পরিচালনা করবেন, তার কোনো বিধান সংবিধানে নেই। অবশ্য কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী প্রথম অধিবেশন পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রপতি কাউকে মনোনীত করতে পারেন। অথবা সাংবিধানিক শূন্যতা এড়াতে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের কাছে পরামর্শ চাইতে পারেন রাষ্ট্রপতি। এভাবে আগামী ১২ মার্চ আহূত অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি সংসদ অধিবেশন পরিচালনার দায়িত্ব পেতে পারেন।
কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, উল্লিখিত প্রক্রিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির সভাপতিত্বে সংসদের প্রথম অধিবেশনে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হবে। নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শপথগ্রহণের মাধ্যমে নতুন সংসদের পূর্ণাঙ্গ যাত্রা শুরু হবে।
এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন সংসদ-সদস্যদের (এমপি) শপথগ্রহণের পর থেকেই দেশে রাজনীতিতে কিছুটা উত্তাপ ছড়িয়েছে। তবে এই উত্তাপ সংকটে রূপ নেয় কি না, তা দেখার জন্য সংসদের প্রথম অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারণ, নির্বাচনের পর সরকারি দলের নির্বাচিতরা শুধু সংসদ-সদস্য হিসাবে শপথ নিয়েছেন। আর বিরোধী দলের সদস্যরা নিয়েছেন দুটি শপথ। একটি সংসদ-সদস্য হিসাবে এবং অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়টি গণভোটে স্বীকৃতি মিলেছে। গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় সংবিধানের চেয়ে কম নয়। আমি মনে করি, আরও বেশি।’ গণভোটে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ পাশ হয়েছে। ফলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়টি গণরায়ে স্বীকৃতি মিলেছে। এই রায় না মেনে সরকারের সামনে আমি কোনো বিকল্প দেখছি না।
সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবে শপথ না নিয়ে বিএনপির সংসদ-সদস্যরা সংবিধান-পরিপন্থি কোনো কাজ করেননি। যেহেতু সংবিধানে এখন নেই, তাই শপথ নেওয়ার প্রশ্ন আসে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে সংকট তৈরি হয়েছে। আর এ সংকট কতটা ঘনীভূত হবে, সংসদ অধিবেশন শুরুর পর তা বোঝা যাবে।




