নতুন গভর্নর : স্বার্থের দ্বন্দ্বের ঝুঁকি দেখছে টিআইবি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:০০:৫৬ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর স্বার্থের দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে উঠে কতটা স্বাধীনভাবে তার দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। নিজ প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ বিবেচনায় ঋণ পুনঃতফসিল করা একজন তৈরি পোশাক ও আবাসন ব্যবসায়ী কর্পোরেট স্বার্থের প্রভাবমুক্ত হয়ে মূল্যস্ফীতি, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও ব্যাংক খাতের সুশাসন নিশ্চিতে গভর্নর হিসেবে কতটা নির্মোহভাবে দায়িত্বপালন করতে পারবেন? এ প্রশ্নও তুলেছে সংস্থাটি।
গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নবনিযুক্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের ব্যাংকিং খাতে অভিজ্ঞতা মূলত ঋণগ্রস্ত থেকে ঋণখেলাপি ও পরবর্তীতে বিশেষ বিবেচনায় ঋণ পুনঃতফসিলকরণ প্রক্রিয়া সংক্রান্ত। এ ছাড়া, তৈরি পোশাক শিল্প, আবাসন, অ্যাটাব, ঢাকা চেম্বার্সের মতো প্রভাবশালী ব্যবসা লবির অংশ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে নতুন গভর্নরের।
তিনি বলেন, প্রশ্ন হচ্ছে, কর্তৃত্ববাদী চৌর্যতন্ত্রের আমলে খাদে পড়া ব্যাংক খাতকে পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা পূরণের ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি করে নিয়োগপ্রাপ্ত নতুন গভর্নর ব্যবসায়ী লবি, ঋণগ্রস্ত ও ঋণখেলাপি মহলের প্রভাবমুক্ত থেকে কতটা স্বাধীনভাবে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন? বিশেষ করে, যেখানে সংসদ সদস্যদের প্রায় ৬০ শতাংশ এবং মন্ত্রিপরিষদের ৬২ শতাংশের মূল পেশা ব্যবসা।
তাছাড়া সংসদ সদস্যদের প্রায় ৫০ শতাংশ ঋণগ্রস্ত, যাদের মোট আদায়যোগ্য ঋণের পরিমাণ অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়েছে, সেখানে একজন ঋণগ্রস্ত ব্যবসায়ী, যার বিশেষ বিবেচনায় ঋণ পুনঃতফসিলকরণের অভিজ্ঞতা রয়েছে, এমন একজনকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগের প্রভাব ব্যাংক খাতের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, সার্বিকভাবে এ নিয়োগের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কী বার্তা দিচ্ছে? তা সরকারকে ভেবে দেখার অনুরোধ করছি।
এ নিয়োগকে ‘অভূতপূর্ব’ মন্তব্য করে এর মাধ্যমে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাস্তবে আবারও ‘কর্তৃত্ববাদী চৌর্যতন্ত্রের’ আমলের মতো জাতীয় স্বার্থের তুলনায় খেলাপি ঋণ ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতানির্ভর ব্যবসায়ী লবির ‘করায়ত্ত ও হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হল বলে দাবি করেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, সদ্য ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একজন সদস্যকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বভার প্রদান কতটা বিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাও সরকারকে বিবেচনায় নিতে হবে। একই সঙ্গে বিএনপি তার নির্বাচনি ইশতিহারে ব্যাংক খাতের সুশাসন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা, তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের যে অঙ্গীকার করেছে, তার সঙ্গে এ জাতীয় স্বার্থের দ্বন্দ্বপুষ্ট ব্যক্তিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ প্রদান, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত গভর্নরের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকার দলীয় ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী স্বার্থের বাইরে গিয়ে কতটা স্বাধীনভাবে সার্বিক ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রণ ও সহায়কের ভূমিকা পালন করতে পারবেন, প্রশ্ন তুলেছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।





