মার্কিন-ইসরায়েলের হামলা, প্রত্যাঘাত ইরানের :মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ যুদ্ধের শঙ্কা
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৮:১১ অপরাহ্ন
ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও ৫৩ স্কুল শিক্ষার্থী ‘নিহত’
জালালাবাদ রিপোর্ট : কয়েক মাস ধরে পরিচকল্পনা করার পর শনিবার সকালে ইরানে ব্যাপক বিধ্বংসী সমন্বিত হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। বিপরীতে ইসরাইলে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণ চালিয়েছে ইরান। হামলা চালিয়েছে বাহরাইন, আরব আমিরাত ও কাতারের মার্কিন বিমানঘাটিতেও। পাল্টাপাল্টি এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ভয়াবহ যুদ্ধের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইসরায়েল-আমেরিকা বাহিনী ইরানের ‘শত শত সামরিক স্থাপনায় হামলা’ চালিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে এই হামলা চালানো হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারও। ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থিত দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইসরায়েলি হামলার শিকার হয়েছে। এছাড়া আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় হামলা হয়েছে। তেহরানে হামলার শিকার হওয়া গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলো হলো- গোয়েন্দাবিষয়ক মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা। এছাড়া ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি ও প্রেসিডেন্টের বাসভবনও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলো।
ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সাথে পরিচিত দুটি সূত্র এবং একটি আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুধু এসবই নয়, ইহুাদিবাদী দেশ ও মার্কিন বাহিনী নজিরবিহীন হামলা করেছে ইরানের স্কুলগুলোতেও।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছে ৫৩ শিক্ষার্থী। আহত হয়েছে ৬০ জন। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এ তথ্য জানিয়েছে বলে উল্লেখ করেছে আল জাজিরা।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে কয়েকটি দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি।
সংবাদ সংস্থাটির খবরে বলা হয়েছে, যেসব ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে তার মধ্যে মধ্যে কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি, কুয়েতের আল সালেম বিমান ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর।
সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বাহরাইন, কাতারের দোহার পর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে যে, রাজধানী আবুধাবিতে একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো পড়ে একজন নিহত হয়েছেন। ওদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তেহরানে নেই এবং তাকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স একজন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে খবর দিয়েছে। বিবিসি আরবি বিভাগ জানিয়েছে, তেহরানে খামেনির সদরদপ্তর ও প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদের কাছেই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এর আগে ইরানের হামলা চালানোর তথ্য জানায় ইসরায়েল। তারা এটিকে “পূর্ব-নির্ধারিত আক্রমণ” বলে উল্লেখ করে।
ইসরায়েলের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, কয়েক মাস ধরে এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে, আর আক্রমণ শুরু করার তারিখটি চূড়ান্ত করা হয়েছে কয়েক সপ্তাহ আগে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আকাশ পথে ও সমুদ্র পথে ‘ব্যাপক’ হামলা চালানো অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে হামলা শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ লক্ষ্যবস্তুতে সীমিত রয়েছে। ওই কর্মকর্তা জানান, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে হামলা চালানো হচ্ছে।
এই হামলার পরপরই পুরো ইসরায়েলে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৮টায় ইসরায়েলজুড়ে সাইরেনের আওয়াজ শোনা গেছে, সম্ভাব্য পাল্টা মিসাইল হামলা সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্বের বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় তেল ও বাণিজ্যিক কোম্পানি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের এই যুদ্ধ পুরোপুরি উস্কানিমূলক, অবৈধ এবং অন্যায্য।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ট্রাম্প ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে ‘ইসরায়েল ফার্স্ট’-এ পরিণত করেছেন, যার চূড়ান্ত অর্থ হলো ‘আমেরিকা লাস্ট’।
অন্যদিকে, ইরানের বর্তমান ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা উৎখাত করতে দেশটির জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক ভিডিও বার্তায় তিনি ইরানিদের এ সুযোগ (ইসরায়েল-মার্কিন হামলা) কাজে লাগিয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন।





