এ যাবৎকালের সর্বনিম্ন ঋণ প্রবৃদ্ধি
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ মার্চ ২০২৬, ৮:৪০:৩৪ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং উচ্চ সুদহারের কারণে জানুয়ারিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি এ যাবৎকালের সর্বনিম্ন ৬.০৩ শতাংশে নেমে এসেছে। এতে ব্যবসায়ীরা নতুন বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণ পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছেন এবং ব্যাংকগুলোও ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে খুব সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের ৬.১ শতাংশ থেকে জানুয়ারিতে ঋণ প্রবৃদ্ধি আরও কমেছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যেখানে এই হার ছিল ১০.১৩ শতাংশ, সেখান থেকে ক্রমেই তা উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে এসেছে। নভেম্বরে ঋণ প্রবৃদ্ধি সাময়িকভাবে বেড়ে ৬.৫৮ শতাংশে উঠেছিল। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি উৎপাদনমুখী খাতে নতুন বিনিয়োগের ফল নয়; বরং ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে ঋণ পুনঃতফসিলের প্রভাবেই এমনটা হয়েছিল।
জানুয়ারি-জুন ২০২৬ মেয়াদের মুদ্রানীতি ঘোষণায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, কঠোর মুদ্রানীতি, বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকারের বাড়তি ঋণ গ্রহণ এবং নতুন বিনিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে ঋণের চাহিদা কমে যাওয়াই প্রবৃদ্ধি হ্রাসের প্রধান কারণ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে কমেছে। সেপ্টেম্বর মাসে ছিল ৬.২৯ শতাংশ, আগস্টে ৬.৩৫ শতাংশ, জুলাইয়ে ৬.৫২ শতাংশ, জুনে ৬.৪০ শতাংশ, মে মাসে ৭.১৭ শতাংশ এবং এপ্রিলে ৭.৫ শতাংশ। অন্যদিকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ১০.১৩ শতাংশ। তবে ওই বছরের আগস্টে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তা দ্রুত কমতে শুরু করে।
ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার পেছনে বড় কারণগুলোর একটি হলো ব্যাংক থেকে সরকারের বাড়তি ঋণ গ্রহণ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে সরকারের নিট ব্যাংকঋণ দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা, যা সংশোধিত বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকার প্রায় ৪৩ শতাংশ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট ঋণ গ্রহণ ৩২.৮ শতাংশ বেড়েছে। ফলে তারল্য সংকটের মধ্যে বেসরকারি খাত কার্যত চাপের মুখে পড়েছে।
এদিকে ব্যাংকগুলো রেকর্ড পরিমাণ খেলাপি ঋণের চাপে রয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বকেয়া ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকের মূলধন পরিস্থিতি দুর্বল হয়েছে, সংরক্ষণ (প্রভিশনিং) বাড়াতে হয়েছে এবং নতুন ঋণ অনুমোদনে ব্যাংকগুলো আরও সতর্ক হয়ে উঠেছে। জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫ সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ছিল ৯.৮ শতাংশ। তবে বাস্তবে প্রবৃদ্ধি হয়েছ সে লক্ষ্যের তুলনায় অনেক কম।




