মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান সব বিমানবন্দর বন্ধ, বিশ্বজুড়ে ফ্লাইট বিঘ্নিত
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ মার্চ ২০২৬, ৯:৪৭:৫৫ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্য এবং এর বাইরেও বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। শনিবার ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
ইরান আগেই নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। বন্ধ ইসরায়েলের আকাশসীমাও। পরে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহারাইন, ইরাক, কুয়েত এবং কাতারও আকাশসীমা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ আবুধাবি ও দোহার বিমানবন্দরগুলো বন্ধ রয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দুবাই বিমানবন্দর থেকে সব ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
‘দ্য এমিরেটস এয়ারলাইন্স’ জানিয়েছে, আকাশসীমা বন্ধ থাকায় তারা সোমবার স্থানীয় সময় তিনটা পর্যন্ত দুবাই থেকে সব কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে। একই কারণে সোমবার দুপুর দু’টা পর্যন্ত আবুধাবি থেকে ফ্লাইট স্থগিত করেছে ইতিহাদ এয়ারলাইন্স।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ‘ফ্লাইটঅ্যাওয়ার’-এর তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হাজার হাজার ফ্লাইট এই সংকটের কবলে পড়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের ফ্লাইট বিঘ্নিত হচেছ।
প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে, এয়ার ফ্রান্স, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, ইবেরিয়া এক্সপ্রেস, জাপান এয়ারলাইন্স, লুফথানসা, এলওটি এয়ারলাইন্স, নরউইজিয়ান এয়ারলাইন্স, তুর্কিশ এয়ারলাইন্স, ভার্জিন অ্যাটলান্টিক, এয়ার আলজিরি, স্ক্যানডেনেভিয়ান এয়ারলাইন্স, এয়ার ইন্ডিয়া ও উইজ এয়ার, পেগাসাস এয়ারলাইন্সসের বিমান সংস্থাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে ফ্লাইট আপাতত বাতিল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিমানবন্দরে হামলা:
ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া আবুধাবি ও কুয়েতের বিমানবন্দরগুলোতেও আঘাত হেনেছে তেহরান।
রোববার ভোরে ‘ফ্লাইটরাডার ২৪’-এর মানচিত্রে ইরান, ইরাক, কুয়েত, ইসরায়েল, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারের আকাশসীমা প্রায় শূন্য দেখা গেছে।
একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে (নোটাম) জানানো হয়েছে, ইরানের আকাশসীমা অন্তত ৩ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
বিশ্বজুড়ে প্রভাব ও যাত্রী ভোগান্তি:
দুবাই ও দোহা পূর্ব-পশ্চিমের বিমান চলাচলের প্রধান সংযোগস্থল হওয়ায় এই অচলাবস্থার প্রভাব এশিয়া ও ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শত শত যাত্রীকে তাদের ফ্লাইটের তথ্যের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
ইন্দোনেশিয়ার বালিতে আই গুস্তি নগুরা রাই বিমানবন্দরে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও একের পর এক ফ্লাইট বাতিলের খবর পাওয়া গেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারেতের এয়ার ইন্ডিয়া রোববার দিল্লি, মুম্বাই ও অমৃতসর থেকে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার প্রধান শহরগামী সব ফ্লাইট বাতিল করেছে।
বিশ্লেষকদের উদ্বেগ:ব্রিট্রিশ বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ জন স্ট্রিকল্যান্ড জানান, এটি কেবল গ্রাহকদের ভোগান্তি নয়, বরং বিমান ও ক্রু সদস্যরা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়ায় পুরো শিডিউল ভেঙে পড়েছে।
ফ্লাইটরাডার ২৪-এর যোগাযোগ পরিচালক ইয়ান পেচেনিক সতর্ক করে বলেছেন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘাতের ফলে যদি ওই অঞ্চলের আকাশসীমাও বন্ধ হয়ে যায়, তবে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপর্যয় নেমে আসবে।
ইউক্রেইন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে আগে থেকেই আকাশপথ সংকুচিত হয়ে ছিল। এখন মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটে বিমান সংস্থাগুলোকে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে, যা জ্বালানি খরচ ও সময় দুটোই বাড়িয়ে দিয়েছে।




