সমানে লড়ছে ইরান
প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ মার্চ ২০২৬, ৯:১৭:২৩ অপরাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল’র হামলায় নিহত বেড়ে ১,০৪৫
জালালাবাদ রিপোর্ট : পাল্টাপাল্টি ক্ষেপনাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মধ্যপ্রাচের দেশগুলোতে অস্থিরতা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। আতঙ্ক আর উদ্বেগে দিন পার করছেন মরুর দেশের বাসিন্দারা।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর এখন পর্যন্ত দেশটিতে কমপক্ষে ১ হাজার ৪৫ জন নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়ের-আমেরিকার আগ্রাসনের মাঝে গতকালও কাতারের যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ক্ষেপণাস্ত্র দুটির একটি কাতারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করেছে। অন্যটি আল-উদাইদ এলাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। এটি এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি।
এছাড়া ইরান একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রটি তাসনিমকে বলেছে, ইরানি সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা শাখা মার্কিন এফ-১৫ বিমানটিকে ভূপাতিত করেছে।
এর আগে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের সামরিক অভিযান সংক্রান্ত শাখা খতম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স গত সোমবার ঘোষণা দেয়, ইরানের নিজস্ব বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে।
তখন থেকে মার্কিন যুদ্ধ বিমান ভূপাতিত হওয়ার বিভিন্ন ছবি প্রকাশ হয়। ছবিতে যুদ্ধবিমানের পাইলটদের প্যারাশুট দিয়ে ভূমিতে অবতরণ করতে দেখা গেছে।
এদিকেম সংযুক্ত আরব আমিরাতে ছোড়া আরও ৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২১টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বুধবার মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে। এ ছাড়া ৮ট ড্রোন দেশটিতে আঘাত হেনেছে বলেও জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
এদিকে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ১০টি ড্রোন ও দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে কাতারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
এদিকে, তুরস্কের আকাশসীমায় একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। ভূমধ্যসাগরের পূর্বাঞ্চলে মোতায়েন করা ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূপাতিত করে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদলু এজেন্সির খবরে এ কথা বলা হয়।
ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর এই প্রথম তুরস্কের আকাশসীমায় কোনো ক্ষেপণাস্ত্র প্রবেশের ঘটনা ঘটল। তুরস্ক পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য। তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি আছে।
এদিকে, ইরানের রাজধানী তেহরানে নতুন করে বড় ধরনের হামলা শুরু করার দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, তেহরানে ইরানের শাসকগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী বড় ধরনের হামলা শুরু করেছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে। এএফপির এক প্রতিনিধিও বলেছেন, তেহরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি বিস্ফোরণ হয়েছে।
এ অবস্থায় রাজধানী তেহরানে আয়োজিত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্মরণ অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় এ অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা ছিল। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম এ কথা জানিয়েছে।
একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, কিছু লজিস্টিক ও কারিগরি কারণে স্মরণ অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রদেশ থেকে অনুষ্ঠানে যোগদানে ইচ্ছুক লোকজনও অনুষ্ঠান পেছানোর অনুরোধ জানিয়েছেন।
এদিকে, বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ বজায় থাকার কথা জানিয়েছে দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ওই সমুদ্রপথে চলা ট্যাংকারগুলোর পাহারায় তিনি মার্কিন নৌবাহিনী মোতায়েন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর পরই আইআরজিসি হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ থাকার কথা জানাল।
এদিকে, ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলায় সহায়তা করতে যুক্তরাজ্য অস্বীকৃতি জানানোয় দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে তিরস্কার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘দুই দেশের (যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য) সম্পর্ক এখন আর আগের মতো নেই।’




