হাকালুকি হাওরে বিল শুকিয়ে চৌচির, নির্বাক প্রশাসন
প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ মার্চ ২০২৬, ৫:৪১:৩৮ অপরাহ্ন

বড়লেখা প্রতিনিধি : দেশের সর্ববৃহৎ জলাভূমির অন্যতম মৎস্যভান্ডার হাকালুকি হাওরের সরকারি বিভিন্ন জলমহালে চলছে অবৈধ ফিসিং কার্যক্রম। ইজারাদাররা জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ও ইজারা শর্তের তোয়াক্কা না করেই জলমহাল শুকিয়ে অবৈধভাবে মাছ আহরণ করছেন। ধ্বংস হচ্ছে মাছের বংশ, জলজ উদ্ভিদ, জীববৈচিত্র ও প্রাকৃতিক পরিবেশ। নির্বিচারে জলমহাল শুকিয়ে মাছ আহরণ যজ্ঞ চললেও প্রশাসন রয়েছে নির্বাক।
জানা গেছে, ছোটবড় আড়াই শতাধিক জলমহাল রয়েছে হাকালুকি হাওরে। এর মধ্যে মাত্র পাঁচটি বিলকে অভয়াশ্রম হিসেবে ইজারা দেয়নি সরকার। অন্যান্য বিলগুলোকে ইজারা দিয়ে থাকে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। বিভিন্ন মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি জলমহাল ইজারা নিলেও মুল বিনিয়োগে থাকেন স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। অনেকে জলমহাল ইজারা নিয়ে ইজারা শর্ত ভঙ্গ করে মাছ আহরণ করেন। আবার কেউ কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই অবৈধভাবে ফিসিংয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। হাকালুকি হাওরের প্রায় ৭০ একর আয়তনের দুধাই বিল (বদ্ধ) জলমহালটির রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে ১৪৩২ বাংলা সনের ৩০ চৈত্র পর্যন্ত খাস কালেকশনের জন্য ইজারা পান দক্ষিণ মুর্শিবাদকুরা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি শামীম আহমদ। জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি গত বছরের ডিসেম্বরে তাকে জলমহালের দখল বুঝিয়ে দিয়েছে। এছাড়া জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি একই মেয়াদের জন্য জনৈক চান মিয়াকে ৫৫৬ একরের পোয়ালা বিলের খাস কালেকশন ইজারা প্রদান করে।
সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, অন্তত একমাস/দেড়মাস আগেই পাম্প মেশিন বসিয়ে বিল সেচে মাছ ধরে নিয়ে গেছে ইজারদাররা। দখল বুঝিয়ে দেওয়ার পর জেলা কিংবা উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি ও স্থানীয় ভূমি প্রশাসন আর খোঁজখবর নেয়নি ইজারাদাররা নীতিমালা অনুসরণ ও ইজারা শর্ত মেনে মাছ আহরণ করছে কি-না। জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের চরম উদাসীনতায় ইজারাদাররা বিল শুকিয়ে মাছের বংশ ধ্বংসের পাশাপাশি জলজ উদ্ভিদ ও হাওরের জীববৈচিত্র ধ্বংস করে দিয়েছে। ৫৫৬ একরের পোয়ালা বিল ও ৭০ একরের দুধাই বিলে নেই এক ফোঁটা পানি। অথচ ইজারাদারের সাথে বিলে তিন ফুট পানি রেখে মাছ আহরণের চুক্তি রয়েছে। চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে মেশিন বসিয়ে বিল শুকিয়ে কাদার নিচের মাছও লুটে নেওয়া হয়েছে। বিলের নিচের মাটি ফেটে চৌচির হলেও প্রশাসন নেয়নি ইজাদারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা। এই চিত্র শুধু হাকালুকির দুধাই বিল আর পোয়ালা বিলের নয়, প্রায় প্রত্যেক জলমহালেই চলছে এমন নির্বিচার মৎস্য নিধন।
স্থানীয় লোকজন জানান, ইজারাদাররা মাছ ধরার জন্য পোয়ালা ও দুধাই বিল সেচ দিয়ে শুকিয়ে ফেলায় পানির অভাবে কয়েকশ’ একরের বোরো ধান মরে যাচ্ছে। প্রায় দেড় মাস আগেই তারা বিল শুকিয়ে ফেলে। এত আগে বিল শুকানোর কারণে বোরো চাষিরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন।
একজন সাবেক জনপ্রতিনিধি জানান, পোয়ালা বিল ও দুধাই বিল খাস কালেকশনে নিয়ে দুইজন ইজারাদার মাছের ও বিলের যে পরিমাণ ক্ষতি করেছে তা আগামি ১০ বছরেও পুরণ হওয়ার নয়। তারা মাছ ও বিল ধ্বংস করে দিয়েছে। শুকিয়ে মাছ ধরায় নানা কীটপতঙ্গ, জলজ উদ্ভিদ ও ভেষজ ধ্বংস করে দিয়েছে। এই দুই বিলে হাকালুকির বিলুপ্ত প্রায় উদ্ভিদ ‘মাখনা’র অস্তিত্ব ছিলে। কিন্ত শুকিয়ে তা ধ্বংস করে দিয়েছে।
সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাঈমা নাদিয়া জানান, সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ি বিল শুকিয়ে মাছ আহরণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।





