দেশের সবচেয়ে কম ব্যাংক ঋণ সিলেটে
প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ মার্চ ২০২৬, ৭:৫৭:২৪ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের সবচেয়ে কম ব্যাংক ঋণ সিলেট বিভাগে। আর সবেচেয়ে বেশি ঋণ ঢাকা বিভাগে। তারপরেই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবদেন অনুযায়ী, দেশের ব্যাংক ঋণের সিংহভাগই এখনো ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে কেন্দ্রীভূত রয়েছে। এই দুই বিভাগ মিলেই দেশের মোট ব্যাংক ঋণের প্রায় ৮৭ শতাংশের অংশীদার। প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ঢাকা বিভাগে ব্যাংক খাত থেকে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট ব্যাংক ঋণের ৬৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ। একই সময়ে চট্টগ্রাম বিভাগে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। এর বিপরীতে দেশের অন্যান্য বিভাগে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক কম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিসেম্বর শেষে খুলনা বিভাগে ব্যাংক খাত থেকে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের মাত্র ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ। একই সময়ে রাজশাহী বিভাগে ঋণের পরিমাণ ছিল ৬৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩ দশমিক ৭২ শতাংশ। ডিসেম্বর শেষে বরিশাল বিভাগে ব্যাংক খাত থেকে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৬০২ কোটি টাকা, যা দেশের মোট ব্যাংক ঋণের মাত্র ১ দশমিক ১০ শতাংশ।
একই সময়ে সিলেট বিভাগে ব্যাংক খাত থেকে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ২৭ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১ দশমিক ০৭ শতাংশ। অপরদিকে ডিসেম্বর শেষে রংপুর বিভাগে ব্যাংক খাত থেকে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ। আর ময়মনসিংহ বিভাগে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা, যা দেশের মোট ব্যাংক ঋণের মাত্র ১ দশমিক ২৮ শতাংশ।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যাংক ঋণের বড় অংশ ঢাকা ও চট্টগ্রামে কেন্দ্রীভূত থাকায় আর্থিক অনিয়ম ও ঋণ জালিয়াতির বেশির ভাগ ঘটনাও এসব এলাকাতেই ঘটছে। পাশাপাশি অধিকাংশ ব্যাংক শাখা ও ব্যবসাকেন্দ্রও মূলত এই দুই বিভাগকে কেন্দ্র করেই সম্প্রসারিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্যান্য বিভাগে ঋণ কার্যক্রম বাড়াতে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে কীভাবে কম ঋণ পাওয়া অঞ্চলগুলোতে ঋণের প্রবাহ বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে একটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।





