ইরান যুদ্ধে বাড়ছে আমদানি রপ্তানি ব্যয়
প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ মার্চ ২০২৬, ৮:০২:৩৫ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধে বাড়ছে বাংলাদেশের আমদানি ও রপ্তানি ব্যয়। প্রচলিত রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক বেশি পথ ঘুরে আসছে জাহাজ ও কার্গো বিমান। ফলে ইতোমধ্যে সাগর ও আকাশ পথে পণ্য পরিবহন খরচ বাড়তে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ থেকে তুলাসহ বিভিন্ন কাঁচামাল আমদানি আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠলে দেশের মিল ও কারখানাগুলোর উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে।
তথ্য মতে, সাধারণত চট্টগ্রাম থেকে ছোট জাহাজে কলম্বো, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্লাংকে পণ্য নেয় বাংলাদেশ। এরপর পণ্যগুলো বড় জাহাজে (মাদার ভেসেল) তোলা হয়। অধিকাংশ জাহাজ সুয়েজ খাল হয়ে বা কেপ অব গুড হোপ ঘুরে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে যায়।
দুই বছর আগে গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর পর হুতি হামলার কারণে শিপিং কোম্পানিগুলো সুয়েজ খাল ব্যবহার কমিয়ে দেয়। কেপ অব গুড হোপ হয়ে যাওয়া জাহাজগুলোকে প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার বেশি পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে জ্বালানি খরচ বেশি হয়, ফলে ভাড়া বেড়ে যায়।
আরও বেশি উদ্বেগের বিষয় জ্বালানি সরবরাহ। বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করেছে ইরান। বিশ্বের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ তেল এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। বাংলাদেশের আমদানি করা তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ এই রুট দিয়ে আসে। হরমুজ প্রণালি বন্ধের করণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যে বেড়ে দ্বিগুণ অংকে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে সরকার জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করেছে।
বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি কবির আহমেদ জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর পরে কাতার, কুয়েত, ওমান ও এয়ার এরাবিয়াসহ অন্তত ছয়টি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কার্গো পরিবহন স্থগিত করেছে। ঢাকা থেকে যেসব এয়ারলাইন এখনো চলাচল করছে, তারাও কার্গো বহন সীমিত করছে। ফলে তৈরি পোশাকসহ ১ হাজার ২০০ টনের বেশি পণ্য বিমানবন্দরে আটকে আছে। তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠাতে চীন, মালয়েশিয়া ও হংকং রুট ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে ব্যয় বাড়ছে। এবারও শিপিং কোম্পানিগুলো ভাড়া বাড়াতে শুরু করেছে। খরচ ভাগাভাগির মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতারা এই বাড়তি খরচ স্থানীয় সরবরাহকারীদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে বলেন কবির। তিনি আরও বলেন, রপ্তানি ও আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা নেই, তবে পরিবহন ব্যয় বাড়বে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিকল্প রুট ও সুয়েজ খালের অব্যাহত ব্যবহারের কারণে বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রবাহ কোনোভাবে চালু রাখা সম্ভব হতে পারে। তবে শিপিং লাইনের ভাড়া বাড়ায় পরিবহন ব্যয় বাড়বে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বাড়লেও উৎপাদন ব্যয় বাড়বে।




