ইসির চূড়ান্ত ফল বিশ্লেষণ : পোস্টাল ভোটে জামায়াত এগিয়ে
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ মার্চ ২০২৬, ৮:৫৪:১৫ অপরাহ্ন
দাঁড়িপাল্লা ৪৫.৮৮. ধানের শীষ ৩০.২৮
জালালাবাদ রিপোর্ট : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ভোটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এগিয়ে রয়েছে। দলটি ৪৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ ভোট পেয়েছে। আর বিএনপি পেয়েছে ৩০ দশমিক ২৮ শতাংশ ভোট। এছাড়া দুটি আসনে জয়-পরাজয়ে ভূমিকা রেখেছে ডাকযোগে দেওয়া এই ভোট।
শনিবার (৭ মার্চ) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চূড়ান্ত ফলাফল বিশ্লেষণে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের চাহিদার প্রেক্ষিতে প্রথমবারের মতো ইসি আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটের ব্যবস্থা করে। এতে প্রবাসীদের পাশাপাশি দেশের ভেতরে ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি এবং কয়েদিরাও ডাকযোগে ভোট দেন।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, পোস্টাল ভোট দেওয়ার জন্য ১৫ লাখ ২০ হাজার ৯৩ জন নিবন্ধন করেন।
এরমধ্যে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১০ লাখ ৬৩ হাজার ৮৭৪টি। মোট বাতিল ভোটের সংখ্যা ৫৭ হাজার ৮৯৮টি। ভোট পড়ার হার ৬৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিএনপি পোস্টাল ভোট পেয়েছে ৩ লাখ ২২ হাজার ১৪৪ ভোট। জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৪ লাখ ৮৮ হাজার ১১৪ ভোট এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি পেয়েছে ৫২ হাজার ৮৪০ ভোট। বাকি ভোট পেয়েছে অন্যান্য দল। শতকরা হিসাবে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৪৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ, বিএনপি পেয়েছে ৩০ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং এনসিপি পেয়েছে ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ ভোট।
এদিকে দু’টি আসনে জয়-পরাজয়ে ভূমিকা রেখেছে পোস্টাল ভোট। সিরাজগঞ্জ-৪ ও মাদারীপুর-১ আসনে এমন ঘটনা ঘটেছে। দুটি আসনেই জয়লাভ করে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।
সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে জামায়াতের রফিকুল ইসলাম খান পেয়েছিলেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৩ ভোট এবং বিএনপি প্রার্থী এম. আকবর আলী পেয়েছিলেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৪৫৮ ভোট। সে হিসাবে এগিয়ে ছিলেন বিএনপি প্রার্থী। তবে পোস্টাল ব্যালটের ভোট যুক্ত হওয়ার পর বিজয়ী হন জামায়াতের প্রার্থী। পোস্টাল ব্যালটে রফিকুল ইসলাম খান ঘরে তোলেন ২ হাজার ১৭৯ ভোট। আর এম. আকবর আলী পান ৮২০ ভোট। ফলে জামায়াতের প্রার্থী ৫৯৪ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন।
এছাড়া মাদারীপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থীর চেয়ে ৩৮৫ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হন ১১ দলীয় জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। পোস্টাল ব্যালটের ভোট যোগ হওয়ার আগে বিএনপির নাদিরা আক্তারের ভোট ছিল ৬৪ হাজার ২৯১টি। খেলাফত মজলিসের হানজালার ভোট ছিল ৬৩ হাজার ৫১১টি। তবে পোস্টাল ব্যালটে হানজালা পেয়েছেন ১ হাজার ৩৯৮ ভোট। আর বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তার পেয়েছেন ২৩৩ ভোট। ফলে ৩৮৫ ভোটে পিছিয়ে যান বিএনপি প্রার্থী নাদিরা।
পোস্টাল ব্যালটে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে রংপুর-২ আসনে। এখানে ভোটের হার ৮৭ দশমিক ০৮ শতাংশ। আর সবচেয়ে কম ভোট শূন্য শতাংশ পড়েছে পঞ্চগড়-২, ঠাকুরগাঁও-২, ঠাকুরগাঁও-৩ এবং চট্টগ্রাম-১ আসনে।
অন্যদিকে হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ২৫৬টি। একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী স. ম. খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ২ হাজার ৩২৮ ভোট। বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমান পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ৫৪৫টি। আর জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবিদুর রহমান পেয়েছেন ১ হাজার ৬২ ভোট।
ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ২ হাজার ৭৯০টি। আর বিএনপির মো. শফিকুল ইসলাম খান পেয়েছেন ১ হাজার ৯২০ ভোট।
ঢাকা-১১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ৮৩৪টি। আর বিএনপির প্রার্থী এম. এ. কাইয়ুম পেয়েছেন ৮৬৪ ভোট।
কুমিল্লা-৪ আসনে ১১ দলীয় জোটের শরিক ও এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ৬ হাজার ৫৬টি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী গণঅধিকার পরিষদের মো. আ. জসিম উদ্দিন পেয়েছেন ২৪১ ভোট। জেলার প্রতিটি আসনেই জামায়াত জোট বেশি পোস্টাল ভোট পেয়েছে। চাঁদপুর, নোয়াখালী এবং লক্ষ্মীপুরেও একই অবস্থা।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ফেনী-৩ আসন থেকে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন করেছিলেন ভোটাররা। এ আসনে ১৬ হাজার ৩৮ জন নিবন্ধন করেছিলেন। এতে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু ৩ হাজার ১৯৬ পোস্টাল ভোট পেয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন পেয়েছেন ৭ হাজার ৩৩৯ ভোট।




