ফের উর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতির পারদ
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ মার্চ ২০২৬, ৮:৪১:৪১ অপরাহ্ন

জালালাবাদ রিপোর্ট : ফের উর্ধ্বমুখী দেশের মূল্যস্ফীতির পারদ। খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় আটমাস পর ফের ৯ শতাংশের ঘরে পৌঁছাল মূল্যস্ফীতি। মূল্যস্ফীতি বাড়ায় খেটে খাওয়া মানুষের পকেটের ওপর চাপ বাড়লেও মজুরি হারের সূচকে কোনো সুখবর নেই। মূল্যস্ফীতি বাড়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে দেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। গত তিন বছর ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। ২০২৫ সালে গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ তথ্য বলছে, টানা চতুর্থ মাস বেড়ে ফেব্রুয়ারি মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে, যা গতবছরের ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতির হার দিয়ে বোঝায়, গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে যে পণ্য বা সেবা ১০০ টাকায় মিলেছে, তা চলতি বছরের জানুয়ারিতে পেতে খরচ করতে হয়েছে ১০৯ টাকা ১৩ পয়সা। মূল্যস্ফীতির এই হার গতবছরের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। ওই সময় এ হার ছিল ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ। মে মাসে তা কমে ৯ দশমিক ০৫ শতাংশ হয়েছিল। এরপর তা কমতে কমতে গতবছর অক্টোবর মাসে ৮ দশমিক ১৭ শতাংশে নেমে এসেছিল, যা ৩৯ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম।
এরপর থেকে ফের ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতির পারদ। গতবছর নভেম্বরে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ, ডিসেম্বরে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশের পর জানুয়ারিতে এই হার ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে পৌঁছায়। ফেব্রুয়ারিতে তা এক লাফে ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে গেল।
গতকাল রোববার প্রকাশিত বিবিএসের হালনাগাদ তথ্য বলছে, ফেব্রুয়ারিতে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশে যা এক মাস আগে জানুয়ারিতেও ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ ছিল। অর্থাৎ, মাসের ব্যবধানে এ সূচক বেড়েছে ১ দশমিক ০১ শতাংশ পয়েন্ট। তাতেই সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছে বেশ। খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতির হারও ফেব্রুয়ারিতে বেড়েছে। এ খাতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০১ শতাংশে, যা জানুয়ারিতে ছিল ৮ দশমিক ৮১ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ২১ শতাংশে, যা জানুয়ারিতে ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ ছিল।
অন্যদিকে, শহরাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি জানুয়ারির ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ০৭ শতাংশ হয়েছে। এর মূলে রয়েছে শহরে খাদ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া। ফেব্রুয়ারিতে শহরাঞ্চলে খাদ্যখাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ, যা জানুয়ারিতে ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ ছিল। অর্থ্যাৎ মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ১ দশমিক ২৬ শতাংশ পয়েন্ট। আর, খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি সামান্য বেড়ে জানুয়ারির ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ থেকে ফেব্রুয়ারিতে ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ হয়েছে।
সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার যেখানে ৯ দশমিক ১৩, সেখানে ফেব্রুয়ারি মজুরি বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ০৬ শতাংশ। যা আগের জানুয়ারি মাসের তুলনায়ও কম। ওই মাসে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ। এর অর্থ হল, জীবযাত্রার ব্যয় যে হারে বাড়ছে, মানুষের আয় সেভাবে বাড়ছে না। উল্টো আগের তুলনায় কমছে।
মূল্যস্ফীতি কীভাবে প্রভাব ফেলে : মূল্যস্ফীতি একধরনের করের মতো। আপনার প্রতি মাসে আয়ের পুরোটাই সংসার চালাতে খরচ হয়ে যায়। কিন্তু হঠাৎ জিনিসপত্রের দাম বাড়লে এবং সে অনুযায়ী আপনার আয় না বাড়লে আপনাকে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হবে কিংবা খাবার, কাপড়চোপড়, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে কাটছাঁট করতে হবে। মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধি বা আয় বৃদ্ধি কম হলে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ে। প্রকৃত আয় কমে যায়।
বিবিএস বলছে, গত ফেব্রুয়ারি জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। এর মানে হলো, মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির হার কমে যাওয়া মানে জিনিসপত্রের দাম কমে যাওয়া নয়। অন্যান্য মাসের তুলনায় ওই নির্দিষ্ট মাসে মূল্যবৃদ্ধি হয়তো কিছুটা কম হয়েছে, এটাই বোঝায়।
উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাজার থেকে পণ্য ও সেবা কিনতে যদি আপনার খরচ হয় ১০০ টাকা, পরের বছরের অর্থাৎ এই ফেব্রুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ হওয়ার মানে হলো, ২০২৬ সালের জানুয়ারি, অর্থাৎ এক বছর পর একই পণ্য ও সেবা কিনতে আপনাকে ১০৯ টাকা ১৩ পয়সা খরচ করতে হয়েছে। প্রতি ১০০ টাকায় আপনার খরচ বেড়েছে ৯ টাকা ১৩ পয়সা।





