ধর্মঘট প্রত্যাহার, ডিপো থেকে তেল না তোলার হুঁশিয়ারি!
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ মার্চ ২০২৬, ৯:১৩:৩৪ অপরাহ্ন
পাম্পকর্মী ছুরিকাঘাতে মামলা হলেও গ্রেফতার নেই

স্টাফ রিপোর্টার: সিলেট নগরীতে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে বলায় পাম্পকর্মীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় মামলা হলেও জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। তবে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে পাম্পকর্মী ছুরিকাঘাতের ঘটনায় সিলেটে পাম্প মালিকদের ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার হয়েছে। পাম্পগুলো খুললেও শঙ্কা কাটছেনা। কারণ বিপণন নীতি পরিবর্তন না করলে এবার ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধেরও ঘোষণা দিয়েছেন পাম্প ব্যবসায়ীরা। এরই মধ্যে কয়েকটি পেট্রোল পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। ডিপো থেকে তেল উত্তোলন না করলে সঙ্কট আরও ঘনীভুত হতে পারে। বন্ধ হয়ে যেতে পারে আরো কয়েকটি পাম্প।
মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে ধর্মঘট প্রত্যাহার ও ডিপো থেকে তেল উত্তোলন না করার ঘোষণ দেয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় শাখা। এর আগে নগরের পেট্রোল পাম্পে হামলা মারধরের প্রতিবাদে মঙ্গলবার ২টা পর্যন্ত ধর্মঘট ডাকেন ব্যবসায়ীরা। বেলা ২টার পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) প্রণীত নতুন বিপণন নীতিমালা সংশোধন না হলে এবার ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রাখতে বাধ্য হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর, অ্যাজেন্ট অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম। পাম্প কর্মচারীর ওপর হামলা ও ছুরিকাঘাতের ঘটনার জেরে দেওয়া অর্ধদিবস ধর্মঘট প্রত্যাহারের পরপর তারা এ হুঁশিয়ারি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, পেট্রল পাম্পের এক কর্মচারীর ওপর হামলা ও ছুরিকাঘাতের ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকে সিলেট বিভাগের সব ফিলিং স্টেশন ও পেট্রল পাম্পে অর্ধদিবস ধর্মঘট পালন করা হয়। তবে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং পাম্পে কর্মরত শ্রমিক ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত কয়েকদিনে সিলেটের বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে মালিক ও শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সারাদিন রোজা রেখে হাজার হাজার মানুষকে সেবা দেওয়ার পরও যদি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তাহলে তাদের পক্ষে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে শ্রমিকদের আবেগ ও ক্ষোভ থেকেই কর্মবিরতির কর্মসূচি দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, বিপিসি সম্প্রতি একটি নতুন বিপণন নীতিমালা চালু করেছে, যেখানে গত বছরের মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত একটি পাম্প যত তেল উত্তোলন করেছে, তার গড়ের ২৫ শতাংশ কম সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, মাসকে ৩০ দিন ধরে গড় নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে অনেক পাম্পে মাসে ২০ থেকে ২২ দিন তেল উত্তোলন করা হয়। এছাড়া বিপণন কোম্পানিগুলোকে দৈনিক কোটা নির্ধারণ করে দেওয়ায় পাম্পগুলো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম তেল পাচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় ও কমিশনের হিসাবও মিলছে না।
তিনি বলেন, সিলেটেই গ্যাস ফিল্ডের কন্ডেনসেট থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অকটেন ও পেট্রোল উৎপাদিত হয়। দেশে অকটেন ও পেট্রলের কোনো ঘাটতি নেই এবং রাষ্ট্রীয় কোম্পানির মজুদাগারেও পর্যাপ্ত তেল রয়েছে। কিন্তু বিপণন নীতিমালার কারণে ডিপোতে মজুত থাকলেও পাম্পগুলোতে সরবরাহ স্বাভাবিকভাবে করা যাচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষ পাম্প মালিকদের ওপর ক্ষুব্ধ হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।
তারা কোনো ধরনের মজুদদারি বা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত নন বলে তিনি দাবি করে বলেন কেউ নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি করলে সংগঠন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেবে।
সংগঠনের তথ্যমতে, সিলেট বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ লিটার ডিজেল, প্রায় ২ লাখ লিটার পেট্রোল এবং প্রায় দেড় লাখ লিটার অকটেনের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে এর তুলনায় অনেক কম।
তিনি বলেন, বিপিসিকে দ্রুত নীতিমালা সংশোধন করে মাঠের বাস্তবতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার মাধ্যমে তেল বণ্টনের ব্যবস্থা করতে হবে। নীতিমালা সংশোধন না হলে পাম্প খোলা থাকলেও ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রাখা হবে। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এবং শিগগিরই বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করা হবে।
প্রসঙ্গত- সোমবার সন্ধা ৭টার দিকে সিলেট নগরীর চৌকিদেখীর উত্তরা পেট্রোলিয়াম পাম্পে তেল না পেয়ে কর্মী মিঠু গোয়ালাকে ছুরিকাঘাত করেন এক গ্রাহক। এতে ওই কর্মী গুরুতর আহত হন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনায় সোমবার রাতেই এয়ারপোর্ট থানায় অভিযোগ দাখিল করেন উত্তরা পেট্রল পাম্পের ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম।
এর সত্যতা নিশ্চিত করে এসএমপির এয়ারপোর্ট থানার ওসি (তদন্ত) সৌমেন মৈত্র জানান, চৌকিদেখী পাম্পে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ৩ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরো ৬/৭ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হামলাকারীদের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় গ্রেফতারে পুলিশকে বেগ পেতে হচ্ছে। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেফতার করা হবে।





