জকিগঞ্জে রাস্তা নির্মাণ ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ মার্চ ২০২৬, ৭:৫৭:১৮ অপরাহ্ন

জকিগঞ্জ প্রতিনিধি : সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার ৩নং বারহাল ইউনিয়নের পইল গ্রামে রাস্তা নির্মাণ কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে। এক পক্ষ অন্যের জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে আদালতে মামলা দায়ের করেছে। অপরদিকে বিবাদীপক্ষ ওই অভিযোগ অস্বীকার করে বাদীপক্ষের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, পইল গ্রামের বাসিন্দা মৃত মো. আব্দুল মুছব্বির চৌধুরীর পুত্র ফয়জুল ইসলাম চৌধুরী (৪২) অন্যের জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ এনে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (২য় আদালত), সিলেটে একটি বিবিধ মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় দায়ের করা হয়েছে। মামলায় পইল গ্রামের বাসিন্দা অলি চৌধুরী, পিতা মৃত আব্দুল হামিদ চৌধুরী, শাহিন আহমদ চৌধুরী, পিতা মৃত সামসুল ইসলাম চৌধুরী, মারুফ আহমদ, পিতা মৃত আকল মিয়া, রায়হান আহমদ, পিতা হেলাল আহমদসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০৪ সালের ২০ জুন ২০৮৭ নম্বর দলিলের মাধ্যমে বাদীর পিতা ও চাচা জকিগঞ্জ উপজেলার মইয়াখালী গ্রামের বাসিন্দা মো. তছির আলীর কাছ থেকে উক্ত জমি ক্রয় করেন। এরপর থেকে তারা জমিটির মালিকানা ও দখল ভোগ করে আসছিলেন। পরবর্তীতে তাদের মৃত্যুর পর বাদী ও অন্যান্য উত্তরাধিকারীরা জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি বিবাদীরা জোরপূর্বক জমির উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করা হয়। এ বিষয়ে আদালত ওই স্থানে কাজ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
অন্যদিকে বিবাদীপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, এলাকায় সরকারি প্রকল্পের আওতায় রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছিল। ওই কাজের ঠিকাদার আবদুর রহমান (৩৫) অভিযোগ করেন, পইল গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি তার কাছে কাজ চালিয়ে যেতে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নির্মাণস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের কাজে বাধা দেওয়া হয় এবং মারধরের চেষ্টা করা হয়। এতে শ্রমিকরা ভয়ে কাজ বন্ধ করে চলে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে বাদীপক্ষ এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তাদের বক্তব্য, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলেই তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে স্থানীয়রা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ বিষয়ে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অভিযোগ এসেছে, এই অভিযোগকে গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




