ঈদকে সামনে রেখে অসাধু ব্যবসায়ীরা তৎপর
প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ মার্চ ২০২৬, ১২:৫২:৫৭ অপরাহ্ন
ঈদ মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। ঈদকে ঘিরে প্রচুর কেনাকাটা হয় বাংলাদেশে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বিশেষভাবে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য ব্যবসায়ী। প্রতি বছর ঈদ এলেই তাদের তৎপরতা বাড়ে। এবারও এর ব্যতিক্রম নয়। এবার রমজানে বেশ গরম পড়েছে। তাই অনেকেই ইফতারের সময় বিভিন্ন ধরনের জুস খাচ্ছেন। শিশুরা এই পানীয়র প্রতি বিশেষ আকৃষ্ট। তারা অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে নানা ধরনের জুস কিনে পান করছে। কিন্তু এসব জুসে অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদানের পাশাপাশি কাপড়ে ব্যবহারের রং মিশ্রিত করার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ভোক্তা অধিদপপ্তরের কর্মকর্তারা এসব জুস তৈরীর কারখানায় অভিযান চালিয়ে এজন্য জরিমানা করছেন। ইতোমধ্যে মিডিয়ায় এসব সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া ঈদে বিক্রির জন্য লাচ্ছা ও অন্যান্য সেমাই তৈরী করা হচ্ছে বিভিন্ন কারখানায়। এগুলোও অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরী হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভোক্তা অধিদপ্তরকে এদেরও জরিমানা করতে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে ভেজাল ঘি ও দুধ তৈরীর হিড়িক লক্ষ্য করা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। শুধু খাদ্যসামগ্রী নয় নিম্নমানের পোশাক অতিরিক্ত দামে বিক্রির প্রবণতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে তৈরী পোশাকের দোকান, এমনকি অভিজাত বিপনী বিতানগুলোতে। দাম বাড়িয়ে ছাড়ে বিক্রির প্রতারণাও চলছে অনেক স্থানে।
সম্প্রতি মিডিয়ায় ‘প্রতারণা আর ভেজালের ফাঁদে সিলেটের ক্রেতারা’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মূলত: ঈদকে সামনে রেখে সিলেটজুড়ে প্রতারণা আর ভেজালের ফাঁদ পেতেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। অফারের নামে প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে নামি দামি ব্রান্ড শপগুলো। বিদেশী দাবি করে চড়া দামে বিক্রি করছে দেশী পোশাক। পাকিস্তানী পোশাকের প্রচুর জনপ্রিয়তা থাকায় দেশী পোশাক চালিয়ে দেয়া হচ্ছে পাকিস্তানী পোশাক হিসেবে। কোন কোন প্রতিষ্ঠান ট্যাগ পরিবর্তন করে বাড়িয়ে দিয়েছে পোশাকের দাম। ৫০ শতাংশ ছাড়ের লোভনীয় অফার দিয়েও অনেক প্রতিষ্ঠান চেষ্টা করছে ক্রেতা আকর্ষণের। সম্প্রতি কাপড়ের দোকানগুলোতে অভিযানে নেমে রীতিমতো হতবাক হন ভ্রাম্যমান আদালত। ব্যবসায়ীদের কারসাজি দেখে অভিযানকারীরাই হয়ে যান হতভম্ব। অভিযানকালে দেখা যায়, কোন কোন প্রতিষ্ঠান ৫০শতাংশ অফারের লাভ দেখালেও ছাড় দিচ্ছে গুটিকয়েক পণ্যে। এছাড়া বিভিন্ন ব্রান্ড শপ বিদেশী পোশাকের নামে দেশী কাপড় গছিয়ে দিয়ে কাটছে ক্রেতাদের পকেট। ক্রয় মূল্যের চেয়ে ৫/৭ গুণ বেশী দামেও বিক্রি করছে এসব কথিত বিদেশী পোশাক। ইতোপূর্বে এক মিডিয়া সংবাদে বলা হয়, রমজান ও ঈদকে টার্গেট করে ভেজাল পণ্য তৈরী করে সারা দেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। আইন শৃংখলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে রীতিমতো কারখানা বানিয়ে তৈরী করা হচ্ছে এসব পণ্য। শুধু রাজধানীতেই রয়েছে এমন ভেজাল ও নকল পণ্য তৈরীর শতাধিক কারখানা। সূত্র জানায়, রমজানের শুরু থেকেই খাবারজাত পণ্য ভেজাল করতে শুরু করে অসাধু চক্রের সদস্যরা। অভিযোগ রয়েছে, অনেক এলাকায় স্থানীয় থানা পুলিশ ও বিএসটিআই’র কর্মকর্তাদের মাসোয়ারা দিয়ে কারখানায় ভেজাল পণ্য তৈরী করে তারা। মানহীন ও স্বাস্থ্যহানিকর এসব পণ্যের বাজারজাত করা হয় প্রকাশ্যে। নকল কারখানায় উৎপাদিত খাদ্য ও প্রসাধন সামগ্রীগুলো আকর্ষণীয় মোড়কে প্যাকটে করে বাজারজাত করছে সারা দেশে।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক ভেজাল ও নকল পণ্য উৎপাদক ও বাজারজাতকারীরা ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। এদিকে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের শীর্ষ মহলের দৃষ্টি দেয়া আবশ্যক।
ইসলামে ও ব্যবসায়ে প্রতারণা, পণ্য ওজনে কম দেয়া, ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পবিত্র কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী এগুলো অত্যন্ত গর্হিত কাজ। পবিত্র মাস রমজান ও ঈদে এ ধরনের ইসলাম বিরোধী তৎপরতা থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বিরত থাকবেন, এমন প্রত্যাশা আমাদের।



