ফাল্গুনের শেষে সিলেটে ঝড়-বৃষ্টি : ধেয়ে আসছে বৃষ্টি বলয় ‘গোধূলি’
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ মার্চ ২০২৬, ২:৪২:৪৮ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : ফাল্গুনের শেষ লগ্নে সিলেটে নামলো ‘কালবোশেখি’ ঝড়। সাথে স্বস্তির বৃষ্টি। তবে আকস্মিক এই ঝড়ের কারণে বিভিন্ন স্থানে গাছ ও খুঁটি উপড়ে গেছে। বিদ্যুৎ লাইনেরও ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুত সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটে।
শুক্রবার ভোর থেকে সিলেট নগরী, জেলা ও বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় আকাশ কালো করে বইতে থাকে শীতল বাতাস। দিনের শুরুতেই প্রকৃতির এই পরিবর্তনে নগরবাসীর মধ্যে স্বস্তির অনুভূতি ফিরে আসে। তবে আকাশের প্রচন্ড গর্জন ও ঝড়ে উদ্বেগও দেখা দেয়।
ভোর থেকে হালকা বৃষ্টি শুরু হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে থাকে। সকাল ৯টার দিকে সিলেট নগরীতে শুরু হয় টানা বৃষ্টিপাত, যা একটানা চলতে থাকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। তিন ঘণ্টার এই বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন সড়কে পানি জমে থাকতে দেখা যায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেটের তথ্যমতে, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিলেটে ৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত আরো ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। সব মিলিয়ে দিনের প্রথম ছয় ঘণ্টায় মোট ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের শুক্রবারের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ১৭ মার্চ পর্যন্ত সিলেট বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি, ঝড়ো হাওয়া এবং বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে। তাই ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের সময় জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন জানান, সিলেট অঞ্চলের আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘলা থাকতে পারে। একই সঙ্গে দু-এক জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টি অথবা বৃষ্টিসহ অস্থায়ী দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়টিতে এ ধরনের বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া স্বাভাবিক।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ঝড়ে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে ৩টি ট্রান্সফরমার এবং বিদ্যুৎ লাইনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।
শুক্রবার প্রায় ঘণ্টাব্যাপী আকস্মিক বজ্রসহ ঝড়ের তাণ্ডবে এই ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঝড়ে শমশেরনগর বাজারের সবুজবাগ আবাসিক এলাকায় তিনটি ট্রান্সফরমার ভেঙে রাস্তায় পড়ে গেছে। এছাড়া অন্যান্য আরও কয়েকটি স্থানে ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ঝড়ে গাছের ডাল ভেঙে বিদ্যুৎ লাইন ছিঁড়ে যায়। ফলে দুপুর থেকে বিকাল পৌনে ৫টা পর্যন্ত উপজেলার অধিকাংশ স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
দীর্ঘ শুষ্ক মৌসুমের শেষে এই বৃষ্টি ধানের জন্য উপকারী হওয়ায় বোরো ধানচাষীদের মুখে হাসি ফুটেছে। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বর থেকে সিলেটে বৃষ্টির দেখা নেই বললেই চলে। বৃষ্টির অভাবে বোরো ধান ও চা উৎপাদন হুমকীর মুখে পড়ে। স্বস্তির বৃষ্টিতে বোরো ধান ও চা উভয়ই উপকৃত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এর মাঝে শঙ্কাও আছে, যদি বৃষ্টিপাত দীর্ঘায়িত হয়।
ধেয়ে আসছে বৃষ্টি বলয় ‘গোধূলি’
আগামী ১৩ থেকে ১৭ মার্চের মধ্যে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে সক্রিয় হতে পারে বৃষ্টি বলয় গোধূলি। মূলত বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে অধিকাংশ বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এ বৃষ্টি বলয়ের নাম রাখা হয়েছে গোধূলি।
বৃষ্টি বলয়টির নামকরণ করেছেন আবহাওয়া পর্যবেক্ষণভিত্তিক সংগঠন বিডব্লিউওটির পরিচালক ওমর খৈয়াম।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়ার কারণে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এর ফলেই আগামী কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় ঝড়বৃষ্টি হতে পারে।
সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকতে পারে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ, ঢাকা বিভাগের উত্তর-পূর্বাংশ এবং চট্টগ্রাম বিভাগের উত্তরাঞ্চল। এসব এলাকায় বৃষ্টি বলয় সক্রিয় থাকাকালে একাধিক দফায় ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা বিভাগের অন্যান্য এলাকা, রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের বেশ কিছু স্থানে পুরো সময়জুড়ে এক থেকে দুই দফা ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক কম হলেও কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে এক দফা বৃষ্টি হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে দেশের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ এলাকায় উল্লেখযোগ্য ঝড়বৃষ্টি দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে বাকি এলাকাগুলোতে বৃষ্টি বলয়ের প্রভাব তুলনামূলক কম থাকতে পারে এবং কিছু স্থানে দুই–এক দিন ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হতে পারে।
তবে এটি আংশিক বৃষ্টি বলয় হওয়ায় দেশের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ এলাকা এ সময় বৃষ্টিবিহীন থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষকদের মতে, আবহাওয়া স্বাভাবিকভাবেই পরিবর্তনশীল। তাই বৃষ্টি বলয়ের সক্রিয়তা কম-বেশি হতে পারে এবং সম্ভাব্য এলাকার সংখ্যাও পরিবর্তিত হতে পারে। এ বিষয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী সময় সময় নতুন তথ্য জানানো হবে।




