পুঁজিবাজারে দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দাপট
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ মার্চ ২০২৬, ৭:৫৩:২০ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : দেশের পুঁজিবাজারে দাম বাড়ার দাপট দেখিয়েই চলেছে পচা শেয়ার বা ‘জেড’ গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো। গত সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম বাড়ার শীর্ষ তালিকায় বড় প্রভাব দেখিয়েছে জেড গ্রুপের কোম্পানিগুলো। সপ্তাহজুড়ে দাম বাড়ার শীর্ষ ১০টি স্থানের সবগুলোই দখলে নিয়েছে এই গ্রুপের প্রতিষ্ঠান। আগের সপ্তাহেও একই চিত্র দেখা গেছে।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে সাধারণত ‘এ’, ‘বি’, ‘এন’ এবং ‘জেড’-এই চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়। ভালো কোম্পানি বা যেসব প্রতিষ্ঠান ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেয়, সেগুলোকে রাখা হয় ‘এ’ গ্রুপে। ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানিগুলো থাকে ‘বি’ গ্রুপে, যেগুলোকে মাঝারি মানের হিসেবে ধরা হয়। যেসব কোম্পানি লভ্যাংশ দেয় না, সেগুলোকে রাখা হয় ‘জেড’ গ্রুপে-বিনিয়োগকারীদের ভাষায় যেগুলোকে পচা কোম্পানি বলা হয়। আর নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো থাকে ‘এন’ গ্রুপে।
গত সপ্তাহ জুড়ে বিনিয়োগকারীদের চাহিদার শীর্ষে ছিল ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স। লোকসানে নিমজ্জিত থাকায় ২০১৮ সালের পর কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। তবুও গত সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৫০ শতাংশ বেড়েছে। টাকার অঙ্কে প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে ১ টাকা ১০ পয়সা।
সপ্তাহের শুরুতে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ২ টাকা ২০ পয়সা, যা সপ্তাহ শেষে দাঁড়ায় ৩ টাকা ৩০ পয়সায়। কোম্পানিটির মোট শেয়ারসংখ্যা ২২ কোটি ১৮ লাখ ১০ হাজার ২৪৬টি। ফলে এক সপ্তাহে বাজার মূলধন বেড়েছে প্রায় ২৪ কোটি ৩৯ লাখ ৯১ হাজার ২৭০ টাকা।দাম বাড়ার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস। এক সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ারদরও ৫০ শতাংশ বেড়েছে, যা টাকার হিসাবে প্রতিটি শেয়ারে ১ টাকা ২০ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪ সালের পর থেকে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি, ফলে এটি জেড গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠান।
পরবর্তী স্থানে রয়েছে এফএএস ফাইন্যান্স। ২০১৮ সালের পর এই কোম্পানিটিও কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। গত সপ্তাহে এর শেয়ারদর ৫০ শতাংশ বেড়েছে, যা টাকার হিসাবে প্রতিটি শেয়ারে ১ টাকা ২০ পয়সা বৃদ্ধি। এছাড়া ২০১৬ সালের পর থেকে লভ্যাংশ না দেওয়া ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের শেয়ারদর গত সপ্তাহে ৫০ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৭ সালের পর লভ্যাংশ না দেওয়া প্রিমিয়ার লিজিংয়ের শেয়ারদর বেড়েছে ৪২ দশমিক ৩১ শতাংশ।
দাম বাড়ার তালিকায় আরও রয়েছে ফ্যামিলি টেক্স, যার শেয়ারদর বেড়েছে ২৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ। ২০১৮ সালের পর এই কোম্পানিটিও বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। এ ছাড়া ২০১৩ সালের পর থেকে লভ্যাংশ না দেওয়া এইচ আর টেক্সটাইলের শেয়ারদর বেড়েছে ২৫ শতাংশ। মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের শেয়ারদর বেড়েছে ২৩ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং মেঘনা পেট-এর শেয়ারদর বেড়েছে ২২ দশমিক ৯২ শতাংশ। লোকসানে নিমজ্জিত এই দুই কোম্পানি সর্বশেষ কবে লভ্যাংশ দিয়েছে, সে তথ্য ডিএসইর ওয়েবসাইটে উল্লেখ নেই।
এদিকে ২০১৯ সালের পর লভ্যাংশ না দেওয়া প্রাইম ফাইন্যান্সের শেয়ারদর গত সপ্তাহে বেড়েছে ১৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, মৌলভিত্তি দুর্বল কোম্পানির শেয়ারদর এভাবে বাড়তে থাকায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।




