শেষ মুহুর্তে ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতারা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ মার্চ ২০২৬, ৮:৫৪:৩১ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : সমাজের উচ্চবিত্তের চ্যালেঞ্জ না থাকলেও মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস আর নিম্নবিত্তের টানাটানির সংসারে ঈদ মানেই এক বড় চ্যালেঞ্জ। তবুও নতুন জামা কেনে সন্তানের মুখে হাসি ফুটানোই তাদের কাছে বড় মুখ্য। তাই রমজানের দীর্ঘ উপবাস আর অভাবের লড়াই শেষে মধ্যবিত্ত আর নিম্নবিত্তরাও শেষ মুহুর্তে সামর্থ্য অনুযায়ী ঈদ শপিং করতে ব্যস্ত।
এক চিলতে নতুন পোশাকের ঘ্রাণে সব অভাব ভুলে যাওয়ার এক অদ্ভুত লড়াই চলছে, এ যেন এক মহাআনন্দ। শেষ মুহুর্তে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের শপিং মল খ্যাত হাসান মার্কেট, মধুবন মার্কেট, শুকরিয়া মার্কেট ও হকার্স মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড় বেশি। এসব এলাকায় শেষ মুহুর্তের ঈদ বাজার যেন এখন এক উৎসব।
তবে বেশিরভাগ উচ্চবিত্ত পরিবারের সদস্যরা আগেবাগেই ঈদের কেনাকাটা শেষ করায় শেষ মুহুর্তে ধনাঢ্য শ্রেণীর কেনাকাটার শপিং খ্যাত কুমারপাড়া, নয়াসড়ক ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ফ্যাশন হাউস শো-রুমগুলোতে ক্রেতা সমাগম তুলনামূলক কম। বেশিরভাগ অভিজাত শ্রেণীর মানুষেরা শবে কদরের আগেরদিন পর্যন্ত কেনাকাটা শেষ করেছেন। ফলে এই মুহুর্তে এসব এলাকায় লোকসমাগম অনেকটা কম।
তবে লাইফস্টাইল পণ্যের অন্য শোরুমগুলোতে এখন ভিড় করছেন ক্রেতারা। জুতার ব্র্যান্ড এপেক্স, বাটা, ভাইব্রেন্ট, বে, ওয়াকার, কসমেটিক ব্র্যান্ড বিডি বাজেট, পার্সোনাসহ বিভিন্ন শোরুমে এখন ভিড় করছেন ধনাঢ্য শ্রেণীর লোকজন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) নগরীর আম্বরখানা, জিন্দাবাজার, লামাবাজার, বন্দরবাজার, জেলরোড, নয়াসড়ক ও কুমারপাড়া এলাকায় ঘুরে দেখা যায় এ চিত্র দেখা যায়।
এদিকে হাসান মার্কেট, মধুবন মার্কেট, শুকরিয়া মার্কেট ও হকার্স মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ইফতারের পর থেকে ভিড় করছেন ক্রেতারা। চাঁদ রাত পর্যন্ত এসব মার্কেটে কেনাকাটা চলবে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। হাসান মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা সাইদুর রহমান বলেন, ঈদের জন্য নতুন পোশাক কেনা শেষ। এখন জুতা ও প্রসাধনী সামগ্রী কিনবো। হাসান মার্কেটের বিক্রয়কর্মী হাবিবুর রহমান জানান, এ বছর মেয়েদের থ্রি-পিস, ছেলেদের পাঞ্জাবি এবং শিশুদের পোশাকের চাহিদা বেশি। শেষ সময়ে এসে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোকানে দাঁড়ানোর মতো জায়গাও থাকছে না।
তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এ বছর পোশাক, জুতা ও প্রসাধনীর দাম বেড়েছে। নগরীর গুয়াবাড়ির বাসিন্দা বেলাল খান বলেন, আগের বাজেটে এবার কেনাকাটা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবুও ঈদের কারণে বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন সোনিয়া সায়মিন। তিনি জানান, কয়েকটি দোকান ঘুরেও এখনও পছন্দসই দামে কাপড় পাননি, তাই দরদাম করছেন। ব্যবসায়ীরাও স্বীকার করেছেন, এ বছর পোশাক ও অন্যান্য পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। তাদের মতে, জুতার দাম গড়ে ২০-৩০ শতাংশ এবং প্রসাধনীর দাম ১৫-২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে অতিরিক্ত ক্রেতার চাপ ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করার কারণে নগরজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিভিন্ন সড়কের মোড়ে মোড়ে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হচ্ছে যানবাহনগুলোকে। যানজট নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। হুট করেই কয়েক দিন ধরে হকাররা সড়ক দখল করে রাখায় এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান নগরীর বাসিন্দারা। তাই হকারমুক্ত নগর গড়তে নতুন সিসিক প্রশাসকের প্রতি আহবান জানান নাগরিকরা।





