ঈদ ঘিরে ফের ফুটপাত দখলের পাঁয়তারা : অসহনীয় যানজট
প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৪:৩৫ অপরাহ্ন
মব সৃষ্টি করে ফুটপাতে ব্যবসা করা যাবেনা : জেলা প্রশাসক

স্টাফ রিপোর্টার : ঈদকে পুঁজি করে নির্ধারিত জায়গা ছেড়ে ফের নগরীর ফুটপাত দখলের পাঁয়তারা করছে হকাররা। কিন্তু প্রশাসনের অ্যাকশনের কারণে সেটা সম্ভব না হওয়ায় আন্দোলনের নামে মব সৃষ্টিতে নেমেছেন তারা। সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত আন্দোলন করেন তারা। মঙ্গলবার নগরীর বিভিন্ন স্থানে ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে হকারদের ব্যবসা করতে দেখা গেছে। এতে নগরজুড়ে অসহনীয় যানজট দেখা দিয়েছে।
যদিও ফুটপাত দখলের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন সিলেট জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন। ঈদ উপলক্ষে রাস্তা ও ফুটপাত প্রশ্নে কোন ছাড় দেয়া হবেনা বলেও জানান তারা।
জানা গেছে, রমজানের শেষের দিকে এমনিতেই ঈদ উপলক্ষে নগরজুড়ে যানজট লেগে আছে। এমন পরিস্থিতিতে হকাররা ফের ফুটপাতে নেমে আসায় যানজট পরিস্থিতি তীব্র থেকে আরো তীব্রতর হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়ছেন মার্কেট করতে আসা ক্রেতা সাধারণ। যানজটের কারণে অনেককেই রাস্তায় রিক্সা ও গাড়ীতে ইফতার করতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্দোলনের নামে হকারদের ফুটপাত দখলের চেষ্টা যানজট পরিস্থিতিকে আরো কঠিন করে তুলতে পারে।
জানা গেছে, ঈদের পূর্ব পর্যন্ত সিলেট নগরের ফুটপাত ও সড়কে ব্যবসার সুযোগ চান ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীরা। এই দাবিতে সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে নগরীতে বিক্ষোভে নামেন তারা। বিক্ষোভ শেষে এক পর্যায়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর আগে নগরের বন্দরবাজার এলাকার বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন হকাররা।

আন্দোলনকারী হকাররা বলেন, আমাদের উপর জুলুম করা হচ্ছে। পুলিশ গিয়ে ফুটপাতে বসা হকারদের মালামাল তুলে নিয়ে আসছে। হকারদেরও ধরে নিয়ে আসছে। বৃষ্টির মধ্যেও পুলিশ হকারদের মারধর করে ধরে নিয়ে এসেছে।
এমন আচরণ অমানবিক দাবি করে তারা বলেন, ঈদের তিনদিন বাকী আছে। এই তিনদিন আমরা ফুটপাতে ব্যবসার সুযোগ চাই। ঈদ উপলক্ষ্যে অনেকে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছে। ঈদের আগে এই পণ্য বিক্রি করতে না হলে তাদের পথে বসতে হবে। তাই ঈদের পূর্ব পর্যন্ত ফুটপাতে ব্যবসার সুযোগ দিতে হবেন।
জানা গেছে, নগরের যানজট নিরসনে গত বছরের সেপ্টেম্বরে নগরের সড়ক ও ফুটপাত দখল করে বসা হকারদের লালদিঘির পাড় মাঠে পুণবার্সন করে জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন। তবে পুণবার্সনের পরও পুরোপুরি দখল মুক্ত হয়নি নগরের ফুটপাত ও সড়ক। প্রতিদিনই অনেককে ফুটপাতে পণ্য নিয়ে বসতে দেখা যায়। পুলিশ, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানও চালায়। তবে অভিযানের খবর আগেই পেয়ে যান হকাররা। অভিযান শুরুর পর তারা ফুটপাত থেকে সরে যান আর অভিযান শেষ হলে আবার চলে আসেন। এবার পুলিশি অভিযানের বিরুদ্ধে ও ফুটপাতে ব্যবসার সুযোগ চেয়ে আন্দোলনে নেমেছেন হকাররা।

সিলেট সিটি কর্পোরেশন, পুলিশ প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে নগরীতে ক্রেতাদের আগমন ঘিরে যানবাহন বৃদ্ধি পাওয়ায় যানজট তীব্র হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে যদি হকাররাও রাস্তায় দোকান খুলে বসে তাহলে যানজট পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে নমনীয় না হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে ঐ সূত্রটি জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম দৈনিক জালালাবাদকে বলেন, ঈদকে সামনে রেখে হকাররা ফুটপাতে নামতে সুযোগ খুঁজছেন। রাস্তা ও ফুটপাতে হকারদের বসার কোন সুযোগ নেই। তাদের নির্ধারিত স্থানেই ব্যবসা করতে হবে।
তিনি বলেন, তাদের পক্ষ থেকে ঈদ উপলক্ষে রেজিস্ট্রারি মাঠে ব্যবসার সুযোগ চাওয়া হয়েছিল। সেটা আমরা বিবেচনা করছি। মব সৃষ্টি করে রাস্তা ও ফুটপাতে ব্যবসা করা যাবেনা।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী দৈনিক জালালাবাদকে বলেন, অভিযানের পরপরই তারা রাস্তা ও ফুটপাতে নেমে আসে। আবার অভিযান হলে রাস্তা ছেড়ে চলে যায়। মঙ্গলবারও সেটা ঘটেছে।
তিনি বলেন, ঈদে এমনিতেই নগরীর যানজট নিরসনে পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এরই মধ্যে রাস্তা ও ফুটপাতে হকাররা নামলে নগরীতে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে। রাস্তা ও ফুটপাত হকারমুক্ত রাখতে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। এক্ষেত্রে কোন ছাড় দেয়া হবেনা। আগের মতো অ্যাকশন অব্যাহত থাকবে।




