ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক : এবারো ভোগান্তির ঈদযাত্রা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ মার্চ ২০২৬, ২:৫৭:৫৮ অপরাহ্ন
জালালাবাদ রিপোর্ট : এবারো অস্বস্তির ঈদযাত্রা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে। যানজটে অন্তহীন ভোগান্তি যাত্রী-চালকদের। মঙ্গলবারও সড়কটিতে থেমে থেমে গাড়ি চলতে দেখা গেছে।
কিশোরগঞ্জগামী বাসের চালক রহমত আলী বলেন, ভাই ঈদের বাকী তিনদিন, এখনই যে জ্যাম। আল্লাহ জানে সামনের কয়দিন কেমনে যাব। এই রোডেতো বছর ধরেই জ্যাম। তবে ঈদ আসাতে আরো বেশি অবস্থা খারাপ হচ্ছে।
এ কথাগুলো যখন চালক রহমত আলী বলছিলেন, তখন তিনি আড়িয়াবো এলাকায় জ্যামে। তিনি প্রায় এক ঘন্টা ধরে এখানে বাস থামিয়ে বসে আছেন। শুধু রহমত আলী নয়। ঈদ যাত্রায় তার মতো হাজারো চালক ভোগান্তির আশঙ্কায় আছেন।
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক। এ মহাসড়কটি দিয়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ, ভৈরব, কিশোরগঞ্জসহ ৩৪ জেলার মানুষ চলাচল করে।
এ মহাসড়কের প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকা রূপগঞ্জের অংশে পড়েছে। ঢাকা-সিলেট মহসড়কের রূপগঞ্জে অংশে নিত্যদিনের যানজটে সাধারণ মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছে বছরের পর বছর। তবে ঈদ আসলে এ যানজটের মাত্রা বহুগুনে বেড়ে যায়। এবারের ঈদ যাত্রায়ও যানজটে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক। মহাসড়কটিতে ৮ লেনে উন্নীতকারণে কাজ শুরু হয়েছে। এ সড়কটি দিয়ে সিলেট, ভৈরব, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, গাজীপুরসহ বিভিন্ন জেলার প্রতিদিন শত শত দূরপাল্লার মালবাহী ট্রাক, বাস ও অন্যান্য গণপরিবহণ চলাচল করে। রাস্তার কাজ চলার কারণে যানবাহণ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছে না। এতে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। অবৈধ বাস স্ট্যান্ড, যত্রতত্র যাত্রী উঠানো নামানো, নিয়ম ভঙ্গ করে গাড়ি চালকদের বিপরীত রুটে গাড়ি চলাচল, সড়ক প্রশস্থ কম হওয়া, সড়কে হঠাৎ করে গাড়ি বিকল হয়ে যাওয়ার কারণেও যানজটের সৃষ্টি হয়।
এ যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। মহাসড়কের যানজটের কারণে রূপসী-কাঞ্চন সড়কেও দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হতে দেখা গেছে। মহাসড়কের রূপসী বাস স্টেশন, বরপা, বরাব, ভুলতা ও বিশ্বরোড স্টেশনের যানজট প্রতিনিয়ত লেগেই থাকে।
বিল্লাল হোসেন নামে এক বাস চালক বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রাস্তার কাজ চলার কারণে যানজট প্রতিদিন লেগে থাকে এখানে। সামনে ঈদ। আর ঈদকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষ বাড়িতে যাবে। যানজটের কারণে এক ট্রিপ দিয়ে আসতে যেতেই পুরো দিন চলে যায়।
আনোয়ার মোল্লা নামে এক যুবক বলেন, জরুরী প্রয়োজনে মূমূর্ষ রোগীদের ঢাকা নিতে হলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ব্যবহার করতে হয়। যানজটের কারণে মূমূর্ষ রোগী নিয়ে যেতে দেরী হয়ে যায় প্রায় সময়। তখন অনেক সময় রোগী গাড়িতে মারা যায়। এ যানজট নিরসনের প্রশাসনকে তেমন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না।
যাত্রী মরিয়ম আক্তার বলেন, রূপসী থেকে ভুলতা যেতে সময় লাগে ১০ মিনিট কিন্তু ২ ঘন্টায় পৌছাঁতে পারিনি। প্রতিনিয়ত এ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজট লেগেই থাকে। এ যানজটের কারণে আমরা সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ি অনেক।
ভুলতা হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জসিম উদ্দিন বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৮ লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলায় যনাজট লাগছে। মহাসড়কের কিছু অংশ ভাঙ্গা খানাখদ্দে ভরা। এ কারণে যানবাহন আস্তে আস্তে চলে এখানে। তবে যানজট নিরসনে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। ঈদ আগে মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে বলে আশা করছি।




