সাদা পাথরের নীল জলরাশি আর চা বাগানের সবুজ প্রকৃতিতে মুগ্ধ পর্যটকরা
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ মার্চ ২০২৬, ৩:১৫:৩৬ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : ইট কংক্রিটের নগর জীবনের কোলাহল পেছনে ফেলে ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে প্রকৃতির টানে সিলেটে ভিড় জমিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের লাখো পর্যটক। নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি সিলেট যেন এখন উৎসবমুখর এক পর্যটন নগর। সাদা পাথরের নীল জলরাশি, সোয়াম্প ফরেস্ট রাতারগুলের জলারবন, মেঘের রাজ্য জাফলংয়ের স্উুচ্চ পাহাড়ি ঝর্ণা, বিছনাকান্দির সবুজ জলরাশি ও পাথর এবং বিভিন্ন চা বাগানের সবুজ প্রকৃতিতে মুগ্ধ হয়ে পড়ছেন সিলেটে ঘুরতে আসা ভ্রমণপিপাসুরা।
ঈদুল ফিতরের তৃতীয় দিন সোমবার (২৩ মার্চ) সরেজমিনে দেখা যায়, সিলেটের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে উপচে পড়া ভিড়। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভ্রমণে আসা মানুষের ঢল নামে। পাহাড়ঘেরা স্বচ্ছ পানির পাথুরে নদীতে আনন্দে মেতে ওঠেন পর্যটকরা, নদীতে তিল ধারণেরও ঠাঁই ছিল না।
শুধু সাদাপাথর নয়, জাফলং, বিছানাকান্দি, রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, পান্তুমাই, ডিবির হাওরসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটেও ছিল একই চিত্র। পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ জলধারা, বিছানাকান্দির পাথুরে প্রান্তর ও পাহাড়ি ঝরনা, আর রাতারগুলের অনন্য জলাবন পর্যটকদের মুগ্ধ করে তোলে। প্রতিটি স্পট যেন রূপ নেয় এক একটি উৎসবমঞ্চে।
ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা জান্নাতুল মাওয়া সায়মা বলেন, সিলেটের প্রকৃতি যেন সৃষ্টিকর্তার বিশেষ উপহার। এ সৌন্দর্য অন্য কোথাও খুব কমই দেখা যায়। কুমিল্লা থেকে আসা পর্যটক সানজিদা হ্যাপী বলেন, সারাবছরের কর্মব্যস্ততার পর ঈদের ছুটিতে একটু স্বস্তি খুঁজতেই এখানে আসা। সিলেটের প্রতিটি পর্যটন স্পটই দারুণ। কুষ্টিয়া থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে আসা জামিরুল ইসলাম বলেন, সিলেটের প্রকৃতি আমাকে সবসময় মুগ্ধ করে। তাই ঈদের ছুটিতে পরিবান নিয়ে ঘুরতে এসেছি।
পর্যটকদের আগমনে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে স্থানীয় অর্থনীতি। নৌকার মাঝি আবুল লেইছ জানান, ঈদের আগে আয় কম ছিল, এখন পর্যটক বাড়ায় প্রতিদিন ভালো আয় হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল হাসিম বলেন, ঈদের দিন থেকেই দোকানে ভিড় বেড়েছে, পানি, খাবার ও স্থানীয় পণ্যের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ সারওয়ার আলম বলেন, অনুকূল আবহাওয়া ও পরিবেশের কারণে এ বছর পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।
এদিকে রোববার (২২ মার্চ) বিকেলে সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র পরিদর্শন করেন সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি পর্যটকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং সাদাপাথরকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে করণীয় বিষয়ে মতামত নেন। এ সময় অতিরিক্ত নৌভাড়া আদায়ের অভিযোগে কয়েকজনকে জরিমানাও করা হয়। মন্ত্রী বলেন, সিলেটের পর্যটন স্পটগুলোকে আরো আকর্ষণীয় করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের নিয়ম মেনে চলার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ জাফলং জোনের ইনচার্জ তপন তালুকদার বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা অনিয়ম ঠেকাতে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ঈদের ছুটিতে সিলেট নগরীর চা বাগানগুলোতেও উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে লাক্কাতুরা ও মালনিছড়া চা বাগানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সবুজের মাঝে সময় কাটাতে ভিড় করেন হাজারো মানুষ।
ট্যুরিস্ট পুলিশ সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উৎপল কুমার চৌধুরী জানান, পর্যটন স্পটগুলোতে সার্বক্ষণিক টহল জোরদার করা হয়েছে এবং যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।




