জ্বালানি তেল বিক্রিতে আসছে ডিজিটাল ব্যবস্থা
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ মার্চ ২০২৬, ৮:২৩:০০ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের বণ্টন নিশ্চিত করতে এবং মজুতদারি ঠেকাতে ডিজিটাল সরবরাহব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর আওতায় কিউআর কোড বা কার্ডভিত্তিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত এই মডেলে ব্যক্তি বা যানবাহনের বিপরীতে জ্বালানি কেনার তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষিত থাকবে। এর ফলে কে, কোথা থেকে, কী পরিমাণ জ্বালানি সংগ্রহ করছেন, তা নজরদারি করা যাবে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা, আমদানিতে বিলম্ব এবং দেশের ভেতরে ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে জ্বালানি বিতরণে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতেই সরকার এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। পদ্ধতিটি চূড়ান্ত হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশে চালু করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, পদ্ধতিটি কেমন হবে, তার রূপরেখা তৈরি করতে ইতিমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখন এর কাজ চলছে। বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, কিছু গ্রাহক বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন থেকে বারবার তেল সংগ্রহ করছেন, যা সরবরাহ ব্যবস্থাকে চাপে ফেলছে। এই সমস্যার সমাধানেই মূলত এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশজুড়ে ১৯টি ডিপো থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে বেশির ভাগ পাম্পেই সরবরাহ পর্যাপ্ত নয়। প্রতিদিন পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে এবং তেল পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় চলতি মাসের শুরুতে অস্থায়ী রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছিল সরকার। পরে এই ব্যবস্থা প্রত্যাহার করে নেওয়া হলেও বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন নিজেদের মতো করে তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করে নিয়েছে, যেন কোনো গ্রাহককে ফিরে যেতে না হয়।
বাংলাদেশ পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক জানান, অনেক গ্রাহক দিনে কয়েকবার করে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, তারা রেশনিং চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে আগের মতো মোটরসাইকেলে দুই লিটার ও গাড়িতে ১০ লিটার করে দেওয়ার নিয়মটি কাজে আসবে না বলে মনে করেন তারা। এর বদলে স্থানীয় থানার ইস্যু করা কার্ডের মাধ্যমে রেশনিং চালুর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তবে সরকার আর রেশনিং ব্যবস্থায় ফিরবে না বলে জানিয়েছেন বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল ব্যবস্থার পক্ষে তিনি। রেজানুর রহমান বলেন, এটি এমন একটি ডিজিটাল ব্যবস্থা হবে, যা সুষম বণ্টন নিশ্চিত করবে। যাতে সবাই পর্যাপ্ত জ্বালানি পান এবং মজুতদারি বন্ধ হয়।
সেচের জন্য কৃষকদের জ্বালানির প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকদের সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এ পদ্ধতি তৈরি করা হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্র নিয়ে তারা অনায়াসেই তেল কিনতে পারবেন। তিনি জানান, প্রস্তাবটি এখনো পর্যালোচনাধীন, চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে, তবে আরও কিছুটা সময় লাগবে।





