জামালগঞ্জে খেয়াঘাট নির্মাণে ধীরগতি
প্রকাশিত হয়েছে : ৩১ মার্চ ২০২৬, ৭:৫৯:২৯ অপরাহ্ন

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সবচেয়ে জনবহুল অধ্যুষিত স্থান জামালগঞ্জ-সাচনাবাজার খেয়াঘাট। জামালগঞ্জ অংশের ঘাট নির্মাণ কাজে ধীর গতির কারণে লাখো যাত্রীর অন্তহীন দুর্ভোগ আর দুর্দশা যেন পিছু ছাড়ছেনা। জানা গেছে, খেয়া পারাপারে জামালগঞ্জ সরকারী মডেল স্কুল সংলগ্ন ঘাট নির্মাণে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা বরাদ্দে কাজ পান ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মালতি এন্টারপ্রাইজ। চলতি চৈত্র মাসের শেষ তারিখে ঘাটের কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা। শুধু পিলার ও রড এটে রেখে প্রায় চার মাস অতিবাহিত হলেও এখনো তেমন কোন দৃশ্যমান কাজ চোখে পড়ছেনা। এই ঘাট দিয়েই প্রতিদিন জামালগঞ্জ উপজেলার হাজার হাজার জনসাধারণ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী উপজেলা ধর্মপাশা ও মোহনগঞ্জের মানুষও এই ঘাট দিয়ে খেয়া নায়ে সুরমা নদী পাড় হয়ে উপজেলার বৃহৎ সাচনাবাজার, জেলা ও বিভাগীয় শহর সিলেট যাতায়াত করেন। আবার নদীর ওপাড়ের হাজার হাজার মানুষ ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা জামালগঞ্জ উপজেলা সদরে আসেন। ঘাট নির্মাণ কাজ বিলম্বের কারণে দুই পাড়ের লাখো মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
জামালগঞ্জ পাড়ের ঘাট নির্মাণে বিলম্ব হওয়ায় যাত্রীরা বিকল্প একটি সরু পথ দিয়ে চলাচলে নারী-পুরুষ ও শিশুদের নিয়ে চরম বিরম্বনা পোহাচ্ছেন। এতে করে খেয়া পারাপারে উঠানামার সময় প্রচণ্ড ভীরের কারণে টোল আদায়ে গত তিন মাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ঘাট মালিকও। একটু বৃষ্টি হলেই কর্দমাক্ত পথে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা খেয়া নৌকায় ওঠেন নদী পাড়ি দিতে। অনেকেই পা পিছলে পড়ে হতাহতের খবরও শোনা যায়।
অপরদিকে সাচনাবাজার অংশের ঘাটটি বেশী খাড়া থাকায় যাত্রী উঠা নামায় দুর্ভোগসহ দুর্ঘটনার শিকারও হচ্ছেন লোকজন। কবে জামালগঞ্জ পাড়ের ঘাট নির্মাণ কাজ শেষ হবে তা এখন প্রশ্নবোধক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাচনাবাজার খেয়াঘাট পারাপারের ইজারাদার মো. শহীদুর রহমান বলেন, প্রায় তিন মাস যাবৎ জামালগঞ্জ অংশের ঘাট নির্মাণ কাজে ঠিকাদার গাফিলতি করছেন। এ কারণে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। ঘাট নির্মাণে বিলম্ব হওয়ায় যাত্রীরা বিকল্প একটি সরু পথে নারী-পুরুষ ও শিশুদের চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে। এতে করে খেয়া পারাপারের সময় প্রচণ্ড ভীরের কারণে টোল আদায়ে গত তিন মাসে আমিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মালতি এন্টার প্রাইজের ঠিকাদার বাপ্পী মুঠোফোনে বলেন, ২/৩ দিনের মধ্যেই কাজ শুরু করবো। মঙ্গলবার জামালগঞ্জ উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূর ঠিকাদারকে এনে দ্রুত কাজ করার জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দশ দেন।





