টিপাইমুখ বাঁধ বিরোধী অবস্থানের কারণেই গুম হন ইলিয়াস আলী
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ৭:৪১:০৬ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : ২০০৯ সালে সিলেটের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর উজানে ভারতের বরাক নদীতে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের বিরোধিতা, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) এম ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয় বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন সাবেক ডিজিএফআইয় প্রধান। রিমান্ডে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এক-এগারোর সরকার ও পরবর্তী আওয়ামী লীগ আমলের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়েও তথ্য দিয়েছেন।
রিমান্ডে সাবেক ডিজিএফআই প্রধান বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ বিরোধী আন্দোলনে কারণে এম ইলিয়াস আলীর ওপর ক্ষুব্ধ হয় ভারত এবং শেখ হাসিনা। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর নির্দেশে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) এম ইলিয়াস আলীকে গুম করে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয় র্যাব।
শেখ মামুন খালেদ এও জানান, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই ইলিয়াস আলী গুমের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ঘটনার আগে ও পরে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হয়। পুরো মিশনটি পরিচালনা করে র্যাব। জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন, গুমের অভিযানে ডিজিএফআইয়ের দুজন মেজর প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছিলেন। এছাড়া আরও কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা আগে থেকেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন। অন্যদিকে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, তৎকালীন ডিজিএফআই প্রধান হিসেবে শেখ মামুন খালেদের নির্দেশনাতেই পুরো অভিযান পরিচালিত হয় এবং ডিজিএফআই ও র্যাবের একটি বিশেষ দল এতে অংশ নেয়। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ঢাকা সেনানিবাসের বাসা থেকে উচ্ছেদের ঘটনাসহ আরও কিছু সংবেদনশীল বিষয়ে তদন্তকারীদের কাছে তথ্য দিয়েছেন মামুন খালেদ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রথম দফায় ৫ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে ফের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে ব্যক্তিগত গাড়িচালকসহ নিখোঁজ হন ইলিয়াস আলী। সে সময় ডিজিএফআই প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন শেখ মামুন খালেদ।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, গ্রেফতার সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের রিমান্ডে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে এবং সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।





