অনমনীয় ইরানের অব্যাহত পাল্টা আঘাত
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ৯:০২:২৬ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার মাঝেও অনমনীয় অবস্থানে ইরান। বরং সমানতালে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে অবিরত।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ইরান ও তার মিত্র ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’ শেষ দফার হামলায় ১০০টিরও বেশি ভারী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করেছে। পাশাপাশি অন্তত ২০০টি রকেট ছুড়েছে।
আইআরজিসির তথ্যমতে, এসব হামলায় ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থান এবং পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এর মধ্যে বাহরাইনে মার্কিন বাহিনীর একটি ঘাঁটি এবং কুয়েতের আল-আদিরি ঘাঁটিতে একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ইউনিট রয়েছে। তাদের দাবি, সেখানে একটি হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে।
ইরানের সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকবে।
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও বুধবার সকালে দক্ষিণ ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দায় স্বীকার করেছেন। ইরান ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে সমন্বয় করে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁরা।
এক বিবৃতিতে হুতিরা জানান, ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে মিলে তারা চলতি যুদ্ধে তাঁদের তৃতীয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি চালিয়েছে।
ইরানের পাল্টা হামলার মাঝে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোলাখুলি স্বীকার করেছেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের জন্য কোনো হুমকি নয়। তবে ইরান তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের চুক্তিতে রাজি না হওয়া পর্যন্ত দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকবে।
আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইরানের নতুন সরকারের প্রেসিডেন্ট’ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করেছেন।
নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প এ কথা বলেন। কিন্তু ওই শীর্ষ কর্মকর্তার নাম উল্লেখ না করে তাঁকে তাঁর পূর্বসূরিদের তুলনায় ‘অনেক কম উগ্রপন্থী এবং অনেক বেশি বুদ্ধিমান’ বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
এদিকে, আমেরিকার বিপরিত অবস্থানে ন্যাটো। ফ্রান্সের কনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী অ্যালিস রুফো বলেন, ‘ন্যাটো আসলে কী, তা আমি আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই। এটি এমন একটি সামরিক জোট, যা ইউরো-আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। এটি হরমুজ প্রণালিতে অভিযান পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয়নি। সেখানে এমন কিছু করা হবে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
এদিকে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় এ পর্যন্ত ১ লাখ ১৫ হাজারেরও বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। বুধবার ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি হালনাগাদে এ তথ্য জানিয়েছে।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া অবকাঠামোর মধ্যে আবাসিক ভবন, চিকিৎসা কেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ত্রাণ কেন্দ্রসহ নানা ধরনের বেসামরিক স্থাপনা রয়েছে।
এই স্থাপনাগুলোর ‘উল্লেখযোগ্য অংশ’ তেহরান প্রদেশে অবস্থিত। ধ্বংসস্তূপ থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৫২৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।




