মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে রাতভর সাইরেন আর বিস্ফোরণের শব্দ
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৬:৪২ অপরাহ্ন
ইরানের সর্বোচ্চ সেতু ক্ষতিগ্রস্ত, পাল্টা ৮ সেতুর ‘হিট লিস্ট’ ইরানের
জালালাবাদ রিপোর্ট : ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ৩৫তম দিনে পরশু রাতজুড়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সাইরেনের শব্দ আর বিস্ফোরণ শোনা গেছে।
ইরানি ড্রোন হামলায় কুয়েতের একটি তেল শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির জরুরি সেবা সংস্থাগুলো আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। এছাড়া একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং লবণাক্ত পানি শোধনাগারেও (ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট) হামলা চালানো হয়েছে।
ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে একটি ‘নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা’ চালিয়েছে। এই অভিযানে হেজবুল্লাহর ১৫ জন সদস্য নিহত হয়েছে বলে দাবি তাদের।
এছাড়া বৈরুতের দক্ষিণে একাধিক শহরের বাসিন্দাদের এলাকা থেকে সরে যাওয়ার জন্য নতুন করে নির্দেশ জারি করেছে ইসরায়েল।
আইডিএফ জানিয়েছে, রাতে ইরান থেকে ইসরায়েলে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে যে, তারা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে একঝাঁক ‘ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র’ ছুড়েছে।
তেহরানের কাছে একটি সেতুতে গত বৃহস্পতিবার হামলার পর স্থানীয় বাসিন্দারা বিবিসির কাছে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে, ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। যদিও ধ্বংস হওয়া ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আবুধাবিতে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার তারা বেশ কিছু ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করেছে।
অন্যদিকে বাহরাইনে বিমান হামলার সাইরেন বাজার পর দেশটির নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ সেতু ক্ষতিগ্রস্ত :
ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় শহর কারাজে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে। তাদের হামলায় কারাজে অবস্থিত মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে উঁচু সেতু আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। এরপরই ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আটটি প্রধান সেতুর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। ‘ইটের বদলে পাটকেল’ জাতীয় প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার ইঙ্গিত হিসেবে সেতুর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ‘হিটলিস্ট’ প্রকাশ করে ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ইরানের উচ্চতম বি১ সেতুতে দুটি হামলার পর কুয়েত, জর্ডান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর বেশ কিছু বিখ্যাত সেতু ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের এই তালিকায় রয়েছে কুয়েতের শেখ জাবের আল-আহমদ আল-সাবাহ সমুদ্র সেতু; সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শেখ জায়েদ সেতু, আল-মাকতা সেতু ও শেখ খলিফা সেতু; সৌদি আরব ও বাহরাইনকে সংযোগকারী কিং ফাহাদ কজওয়ে এবং জর্ডানের কিং হুসেন সেতু, দামিয়া সেতু ও আবদুন সেতু।
এদিকে, ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ চলমান সংঘাত অবসানে এক চাঞ্চল্যকর শান্তি প্রস্তাব দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকী ‘ফরেন অ্যাফেয়ার্স’-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি এ প্রস্তাব তুলে ধরেছেন।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং ইরানের সাবেক এই ভাইস প্রেসিডেন্ট বর্তমানে কোনো সরকারি পদে নেই। তবে তিনি প্রস্তাব করেছেন যে, ইরানের উচিত এখনই ‘বিজয় ঘোষণা করা’ এবং এমন একটি চুক্তিতে আসা যা বর্তমান সংঘাত থামাবে এবং ভবিষ্যতে যুদ্ধের আশঙ্কা দূর করবে।




