ওসমানীনগরে স্কুলের দেয়ালঘেঁষে খাবার হোটেলের ময়লা ফেলার অভিযোগ
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৮:১৩ অপরাহ্ন

ওসমানীনগর প্রতিনিধি: ওসমানীনগরে একটি গার্লস স্কুলের দেয়ালঘেঁষে প্রতিদিন দু’টি ব্যস্ততম খাবার হোটেলের ময়লা-আবর্জনা ফেলায় ময়লার উৎকট দুর্গন্ধে স্কুলের শিক্ষার্থীদের পাঠ গ্রহণের স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনকে লিখিত ও মৌখিকভাবে অবহিত করলেও দীর্ঘদিন ধরে এর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছেনা। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দয়ামীর ইউনিয়নের আহমদনগরস্থ মহানগর পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন গ্রাম বাংলা রেষ্টুরেন্ট ও রাজধানী রেষ্টুরেন্ট এর খাবারের উচ্ছিষ্ট ফেলায় উৎকট দুর্গন্ধের শিকার হচ্ছেন জয়বুননেছা গার্লস হাই স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ। এদিকে, চলতি বছরের ২৪ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশনা দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন।
জানা যায়, জয়বুননেছা গার্লস হাই স্কুলের দেয়ালঘেঁষে খোলা নর্দমা দিয়ে প্রতিদিন গ্রাম বাংলা রেষ্টুরেন্ট ও রাজধানী রেস্টুরেন্ট খাবারের উচ্ছিষ্টসহ বর্জ্য ফেলতে থাকে। এসব ময়লা খোলা নর্দমা গড়িয়ে স্কুলের জমির উপরে গিয়ে পঁচা স্তর জমে। এর উৎকট দুর্গন্ধে স্কুলে অধ্যয়নরত প্রায় ২শতাধিক শিক্ষার্থীর শ্রেণীকক্ষে পাঠগ্রহণে ও শিক্ষকদের অফিসকক্ষে বসতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
বিষয়টির সমাধান পেতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, স্থানীয় মসজিদ কমিটি ও পঞ্চায়েত কমিটি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলা এবং ড্রেন নির্মাণের অনুরোধ জানালেও তা কার্যকর হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে গত বছরের ১২ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু অভিযোগ দায়েরের পর প্রায় ৫ মাস চললেও এখনো পর্যন্ত এর কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, দুইটা হোটেল দিনরাত চলে। তাদের সকল ময়লা খোলা নর্দমায় ফেলে দেয়। এসব ময়লা স্কুলের জায়গায় এসে জমা হয়। শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত অসুস্থ হয়ে পড়ছে, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য শিশু চিকিৎসক অধ্যাপক ডাক্তার আজির উদ্দিন বলেন, রেষ্টুরেন্টের পঁচা ময়লার যে কি পরিমাণ দুর্গন্ধ, তা বুঝানো মুশকিল। কোমলমতি বালিকাদের এসব দুর্গন্ধ সহ্য করা খুবই কঠিন, তাই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া অতিব জরুরি।
গ্রাম বাংলা রেষ্টুরেন্টের মালিক শাহীন আহমদের ছোট ভাই সালেহ আহমদ বলেন, আমরা ময়লা রাখার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছি। ট্যাংকি বানানোর কাঁচামাল এনেছি, টাকার অভাবে বানানো হচ্ছেনা। শীঘ্রই বানিয়ে ফেলবো।
রাজধানী রেষ্টুরেন্ট এর মালিক মো. জাকির বলেন, আমরা তিন ভাই রেষ্টুরেন্ট এর মালিক। ছোট ভাই ও বড় ভাই ওখানে থাকেন। আমি সিলেটে থাকি। আমাদের রেষ্টুরেন্টের ময়লা গাড়ি দিয়ে নিয়ে গাঙে ফেলা হয়। তারপরও ময়লা স্কুলের পাশে ফেলা হচ্ছে কি না, আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা’র সরকারি মোবাইলে কল দিলে তিনি কল কেটে দেন।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বিস্তারিত জেনে বলেন, আমি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি।




