কাবিখা প্রকল্পে রাস্তা সংস্কার: বড়লেখায় বরাদ্দের অর্ধেক টাকারও কাজ করেননি ইউপি সদস্য
প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ৬:৪৬:০৩ অপরাহ্ন
বড়লেখা প্রতিনিধি : বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে কাবিখা কর্মসূচির একটি রাস্তার সংস্কার (মাটি ভরাট) কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে। ভোক্তভোগী এলাকাবাসির দাবি সংস্কার কাজের প্রকল্প কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য সেলিম উদ্দিন বরাদ্দের সিকিভাগ অর্থের কাজ করে সিংহভাগ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তার এই লেপাপা দুরস্থ কাজে গ্রামবাসির ভোগান্তি লাঘবের পরিবর্তে গলার কাটায় পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের মুড়াউল গ্রামের লোকজনের যাতায়াত সুবিধার জন্য ৫ নং ওয়ার্ডের মুড়াউল গ্রামের নানু মিয়ার বাড়ির সম্মুখ হতে জাবেদ আলীর বাড়ির সম্মুখ পর্যন্ত রাস্তা পুনঃসংস্কারের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ-অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় ২য় কিস্তিুতে সাধারণ খাতে ৬ টন (চাল) খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্যের বাজার মূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা। রমজান শুরুর আগেই ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রকল্প কমিটির সভাপতি সেলিম উদ্দিন প্রকল্পের ১ম কিস্তির ৬ টন চালের ৩ টন উত্তোলন শেষে বিক্রি করলেও রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু করেননি। ঈদের কয়েকদিন আগে রাতের বেলা কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে রাস্তার পাশের জমি থেকে কিছু মাটি তোলে রাস্তা ভরাট করেন। সঠিকভাবে রাস্তার সংস্কার কাজ না করেই ২৫ মার্চ ২য় কিস্তির অবশিষ্ট ৩ টন চালও উত্তোলন করে নিয়ে যান।
সরেজমিনে গেলে, রাস্তায় চলাচলকারি ভোক্তভোগীরা জানান, ইউপি সদস্য যে কাজ করেছেন তাতে ৩০/৪০ হাজার টাকার বেশি টাকা কাজ হবে না। কাজের সময় তারা প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। রাতে বিদ্যুৎ বাতি জ্বালিয়ে ৫ জন থেকে ৮ জন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১০ দিন কাজ করেছেন। রাস্তার কাঠামো অনুযায়ি তিনি কোথাও মাটি ভরাট করেননি। বেশিরভাগ স্থানে ৩-৫ ইঞ্চি থেকে ৮-১০ ইঞ্চি মাটি ভরাট করেছেন। তার এমন মাটির কাজে রাস্তার ঘাসও ঢাকেনি। অনেক জায়গায় মাটি পড়েইনি।
রাস্তার পাশের বাসিন্দা নানু মিয়া, সুনাম উদ্দিন, ফয়জুর রহমান পুতুল, জুনেদ আহমদ, মানিক উদ্দিন,আবুল আহমদ প্রমুখ এই প্রতিবেদকের কাছে রাস্তাটির সংস্কার কাজে ৬ টন চাল বরাদ্দের কথা শুনে তারা বলেন, ওই চাল বিক্রি করে অন্তত দুই লাখ পেয়েছেন প্রকল্প কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য সেলিম উদ্দিন। রাস্তাটি সংস্কারে তাকে মাটি কিনতে হয়নি। গ্রামবাসি মাটি দিয়ে তাকে সহযোগিতা করেছেন। কোনো পরিবহণও লাগেনি। এরপরও ঠিকমতো মাটি দেননি। আমাদের দেখা মতো সর্বোচ্চ ৪০-৫০ হাজার টাকার কাজ করে বরাদ্দের অবশিষ্ট টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য সেলিম উদ্দিন জানান, ওই রাস্তায় তিনি ১ লাখ ৩২ হাজার টাকার কাজ করেছেন। তিনি কোনো অনিয়ম করেননি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মিজানুর রহমান বলেন, তিনি সরেজমিনে রাস্তাটি পরিদর্শন করবেন। মাটি ভরাট কাজে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পেলে প্রকল্প কমিটির সভাপতিকে দিয়ে অবশ্যই বরাদ্দ অনুযায়ি বাকি সংস্কার কাজ সম্পন্ন করাবেন। অন্যতায় তাকে প্রকল্পের অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে।





