দেশে বৈচিত্র্যময় আবহাওয়া : এ মাসে একাধিক তীব্র তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস
প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ৯:২২:২৭ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : বৈশাখ আসার আগেই দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছেছে প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। কিন্তু কিছু এলাকায় এখনো তাপমাত্রার সহনীয়। সিলেটে ঝড়বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা অনেকটাই কম। তবে সামনের দিনগুলোতে তাপমাত্রা রেকর্ড ছুঁতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, পশ্চিমবঙ্গ ও আশপাশের এলাকায় একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ এবং দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি লঘুচাপ সক্রিয় থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার বৈচিত্র্য দেখা দিচ্ছে। এজন্য সিলেটসহ কিছু এলাকায় এখনো তাপমাত্রা অসহনীয় হয়ে উঠেনি। সিলেটের গত কয়েকদিন ধরে প্রায়ই ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হচ্ছে। এতে তাপমাত্রাও কমেছে।
রাজশাহীতে শুক্রবার ৩৯.০৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা এই মৌসুমের সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, সিলেটের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩১ দশমিক ৫ ডিগ্রী।
ওদিকে অধিদপ্তরটি বলছে, চলতি এপ্রিলে দুটি কিংবা চারটি মৃদু থেকে মাঝারি এবং একটি বা দুটি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
চলতি এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। শুক্রবার দেশের অন্তত ২৭ জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ মাসে এক থেকে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে। তবে ২০২৪ সালে দেশে যতটা গরম পড়েছিল বা যেভাবে টানা ৩৬ দিন ধরে তাপপ্রবাহ চলেছিল, এবার তা না-ও হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর প্রতি মাসের শুরুতে দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দেয়। এপ্রিল মাসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ মাসে এক থেকে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে। এ ছাড়া এ মাসে দুই থেকে চারটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা আছে।
অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের মতে, এবারের এপ্রিল মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিক বা তার কাছাকাছি থাকলেও গরমের তীব্র অনুভূতি বজায় থাকবে। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল (খুলনা বিভাগ), ঢাকা, সিলেট ও বরিশালের কিছু এলাকায় তাপপ্রবাহ বেশি হতে পারে।
২০২৪ সালে বাংলাদেশ ৭৬ বছরের মধ্যে দীর্ঘতম ৩৫ দিনের টানা তাপপ্রবাহ প্রত্যক্ষ করেছিল। তবে এবার তেমন পরিস্থিতি না-ও হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবুল কালাম মল্লিক। এর কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চলতি মাসে একাধিক বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা আছে। তেমনটা হলে তীব্র গরম পড়লেও তা প্রশমিত হয়ে যেতে পারে। আবার নতুন করে গরম পড়তে পারে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে তাপপ্রবাহ থাকবে, এ আশঙ্কা কম।
এপ্রিল মাসে গড়ে ৯টি বজ্রঝড় হয়। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালেও তেমনটা হয়েছিল। এ মাসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ৫ থেকে ৭ দিন হালকা থেকে মাঝারি এবং এক থেকে তিন দিন তীব্র কালবৈশাখী বা বজ্রঝড় হতে পারে। এ ছাড়া সাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। আর এ লঘুচাপ থেকে একটি নিম্নচাপ বা সেখান থেকে ঘূর্ণিঝড়ও হতে পারে।
এখন তাপপ্রবাহের ধরন বদলেছে এবং এটি এখন বর্ষাকাল অর্থাৎ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে দেখা যাচ্ছে। সেই দিকটি তুলে ধরে আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এখন তাপমাত্রা যা-ই থাকুক, গরমের তীব্রতা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি অনুভূত হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আগামী জুন মাস পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসেও উঠে এসেছে, এ সময় তিন থেকে চারটি তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে এবং ছয় থেকে আটটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ হতে পারে।
এদিকে শনিবার সকালে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া এক পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি বয়ে যেতে পারে। সেজন্য ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ওই অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বজ্রবৃষ্টি হতে পারে, অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশ থাকতে পারে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমলেও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে এবং তাপপ্রবাহ কিছু জায়গা থেকে প্রশমিত হতে পারে।
৫ এপ্রিল থেকে ঢাকাসহ খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা, কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমে যেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।
৬ এপ্রিল থেকে বৃষ্টিপাতের বিস্তৃতি আরও বাড়তে পারে। ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের দু-এক জায়গায় বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে।
৭ এপ্রিল থেকে দেশের প্রায় সব বিভাগেই বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা দেখা যেতে পারে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।
আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে প্রথমার্ধে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও সর্তক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।




