বাড়ছে হামের প্রকোপ প্রথম মৃত্যু দেখলো সিলেট
প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ৮:০৫:১৩ অপরাহ্ন
# ওসমানীতে আলাদা আইসোলেশন ইউনিট চালু
# বিদ্যালয়ে সতর্কতা জারি
# বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহভাজন চিকিৎসাধীন ১০১
স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটে হামের সংক্রমণ ক্রমশ বাড়ছে। ছড়িয়ে পড়ছে আতঙ্ক। এরইমধ্যে সোমবার হামে প্রথম মৃত্যু দেখলো সিলেট। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা। অভিভাবকদের সতর্ক করে বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে সর্তকতা জারি করা হয়েছে।
বাচ্চাদের হামের উপসর্গ দেখা দিলে বিদ্যালয়ে না পাঠিয়ে কর্তৃপক্ষকে অবগত করতে বলা হয়েছে। অবস্থা বিবেচনায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ১০ শয্যার আলাদা আইসোলেশন চালু করা হয়েছে। হামের চিকিৎসার জন্য নানা উদ্যোগ নিলেও সিলেটে হামের পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। ঢাকার মহাখালীতে নমুনা পাঠিয়ে সেখান থেকে পরীক্ষা করে ফলাফল জানতে হয়। ফলে রোগের উপসর্গ থাকলেও এটি আসলেই হাম কিনা তা নিশ্চিত হতে সপ্তাহখানেক লেগে যায়। এমনও হয়েছে উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরার পর হাসপাতালে পরীক্ষার ফলাফল এসেছে।
এদিকে সিলেটে সোমবার দুপুরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাম আক্রান্ত ৪ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিলেটে এটিই প্রথম মৃত্যু।
এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওমর রাশেদ মুনির।
তিনি জানান, দু’দিন আগে হাম ও হৃদযন্ত্রের জটিলতা নিয়ে শিশুটিকে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। সোমবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সোমবার থেকে ওসমানী হাসপাতালে হাম রোগীদের জন্য ১০ শয্যার আলাদা আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ নিয়ে সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭ মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে ২ জন এবং উপসর্গ নিয়ে ৫ জন মারা গেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এক দিনে সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৪শ ৬২ জন। সোমবার অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অপরদিকে, সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬ জন রোগী ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে ৪৪ জন সন্দেহজনক রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সবমিলিয়ে, সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১০১ জন সন্দেহভাজন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৬২ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বিভাগে এ পর্যন্ত মোট ৩৭ জন রোগীর হাম সনাক্ত হয়েছে।
হামের প্রকোপের কারণে কোমলমতিদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকরা। ইতিমধ্যে বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে অভিভাবকদের সতর্ক করে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের বাইরে ঘুরাফেরা না করতে বলা হয়েছে। এছাড়া কোনো বাচ্চার মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিলে তাকে বিদ্যালয়ে না পাঠিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষকে অবগত করলে হবে বলে জানানো হয়েছে।
সিলেট সরকারি কিন্ডারগার্টেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক শাহানারা আহমেদ জানান সোমবার স্কুল থেকে হাম নিয়ে সতর্ক করে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এতে স্কুল কর্তৃপক্ষ বাচ্চাদের দিকে বিশেষ নজর দিতে বলেছেন এবং হামের উপসর্গ দেখা দিলে শিক্ষার্থী পরিপূর্ণ ভালো না হওয়া পর্যন্ত স্কুলে না পাঠিয়ে কর্তৃপক্ষকে অবগত করতে বলেছেন।
সোমবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ২৮২ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা আট হাজার ৫৩৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৮০ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ৯৯ জন।
এতে আরও জানানো হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন পাঁচ হাজার ৯৪০ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন ছয় হাজার ১৬ জন। মৃত্যুর হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে সবচেয়ে বেশি পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে।
একই সময়ে জেলার তালিকাতেও ঢাকায় সর্বোচ্চ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে নিশ্চিত ২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছে ১১৮ জনের।





