মাথাপিছু আয় ২৭৬৯ মার্কিন ডলার, আয় বাড়লেও জীবনযাত্রার মান বাড়ছে না
প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ৮:১৮:৫২ অপরাহ্ন

জালালাবাদ রিপোর্ট : ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে মাথাপিছু আয় বাড়লেও মানুষের জীবনযাত্রার মানে কোনো উন্নয়ন ঘটছে না। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ধনী গরীব ব্যাপক বৈষম্যের কারণে মাথাপছিু আয়ের সুফল পাচ্ছেন না দেশের সাধারণ মানুষ।
অর্থনীতির ভাষায়, জিডিপি কিংবা মাথাপিছু আয় বাড়লে মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন ঘটে। কিন্তু বাংলাদেশে তার উল্টো চিত্র। এখন বৈষম্য প্রকট। মুদ্রাস্ফীতি বেশি। প্রকট বৈষম্যের এ সমাজে এর সুফল সবাই পাচ্ছে না। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধির মতো সূচকে অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক নয়। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার মান, পরিবেশের ক্ষয় প্রভৃতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
সোমবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেনের লিখিত প্রশ্নের জবাবেঅর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ন
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার। বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি মাইলফলক অর্জন করা। এ লক্ষ্যে সরকার বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন, ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি, স্পোর্টস অর্থনীতি ইত্যাদিকে বিবেচনার নিয়ে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে।
একসময় উন্নয়ন অর্থনীতিবিদরা মনে করতেন জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি মানেই উন্নয়ন। অনেকেই বলতেন, প্রবৃদ্ধি যত বাড়বে তত এর সুফল গড়িয়ে ওপর থেকে নিচের দিকের মানুষের কাছে যাবে। এতে নিম্ন আয়ের মানুষেরও আয় বাড়বে। অর্থনীতির ভাষায় ধারণাটিকে বলা হয় ‘ট্রিকল ডাউন থিওরি’। তবে উন্নয়নের এ ধারণা বেশ আগেই পরিত্যাগ করেছেন অর্থনীতিবিদরা।
কারণ বাস্তবে দেখা যায়, প্রবৃদ্ধি যত বাড়ে, আয়বৈষম্য বাড়ে তার চেয়ে বেশি। আর তাই জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি মানেই অর্থনীতির উন্নতি নয়। এমনকি প্রবৃদ্ধি বাড়লে এর সুবিধা চুইয়ে নিচে নামার যে ট্রিকল ডাউন নীতি, সেটাও ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তবে উন্নয়ন অর্থনীতিবিদরা জিডিপিকে পরিত্যাগ করলেও অধিকাংশ রাষ্ট্র ও সরকার এখনো জিডিপি প্রবৃদ্ধিতেই থেমে রয়েছে।
জিডিপি বা মাথাপিছু আয় দেশের প্রতিটি মানুষের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার প্রতিফলক নয়। আসলে মাথাপিছু জাতীয় গড় আয় বা গড় ব্যয় দ্বারা কখনই একজন মানুষের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। গড় আয় বা এ ধরনের মূল্যায়নের ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দরিদ্র শ্রেণীর মানুষ। জিডিপির আরেকটি দুর্বলতা আছে। এটি ক্রমবর্ধমান আয় ও সম্পদের বৈষম্য বুঝতে পারে না। প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের আয়বৈষম্য বেড়ে চলছে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৈষম্যের বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে।
নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ ব্যানার্জি বলেছেন, একটি দেশের টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি হলো প্রান্তিক জনগণের উন্নয়ন। তিনি এ কৌশলকে ‘গোয়িং স্মল’ নাম দিয়েছেন। অর্থনীতির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে আগে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হবে। এক্ষেত্রে যারা উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত, তারা যদি সন্তোষজনক মজুরি পান তাহলে উৎপাদনে গতিশীলতা আসবে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি নিশ্চিত হবে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে কীভাবে সমতার অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে এখন অনেক বেশি।





