ওসমানী বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ড : সার্ভার রুমে পুড়ে ছাই, কোটি টাকার ক্ষতি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৫৬:৫৫ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : মধ্যরাতে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ১ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এতে ইমিগ্রেশন সার্ভার রুমের আসবাবপত্র পুড়ে ছাইসহ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এসময় ৭ জন আনসার সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে ইমিগ্রেশন সার্ভার রুম পুড়ে যাওয়ায় সোমবার দিনভর ম্যানুয়ালী চলেছে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম। মেরামতের আগে এভাবেই কার্যক্রম চলবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিমানবন্দর ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে সাড়ে ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এসময় সার্ভার রুমের কাচ ভেঙ্গে ফায়ার সার্ভিস, বিমানবন্দরের আনসার ও এপিবিএন সদস্যরা আগুন নেভাতে প্রচেষ্টা চালান। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা ফায়ার সার্ভিসের।
আগুনে বিমানবন্দরের দোতলায় অবস্থিত ইমিগ্রেশন সার্ভার রুম পুড়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাৎক্ষনিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে জানা যায়নি। তবে এতে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা। আগুন নেভানোর পরও প্রায় ঘণ্টাখানেক ধোঁয়া অপসারণের কাজও করেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
জানা গেছে, সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল থেকে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম চলে ম্যানুয়ালি। ইমিগ্রেশন সার্ভার আগুনে পুড়ায় ম্যানুয়ালি কাজ করতে অনেকটা সতর্কতা থাকতে হচ্ছে ইমিগ্রেশন পুলিশকে। কোন সমস্যা দেখা দিলে সাথে সাথে ঢাকা অফিসে যোগাযোগ করে তা সুরাহা করতে হচ্ছে।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ বলেন, আগুনে ইমিগ্রেশন সার্ভার রুম পুড়ায় সোমবার সকাল থেকে ম্যানুয়ালিভাবে কাজ চলছে। এতে কিছুটা বিলম্ব হলেও যাত্রীদের সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে। তবে ফ্লাইটে কোন ব্যাঘাত ঘটেনি।
ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি ঢাকার ইমিগ্রেশন অফিসের দায়িত্বরতরা তদারকি করছেন। তারা এ বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন।
ইমিগ্রেশন সার্ভার রুমের কার্যক্রম পুরোপুরি চালুর ব্যাপারে তিনি জানান, ঘটনার পর থেকে আগুন লাগার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই সার্ভার রুম পুরোপুরি চালু হতে অনেক সময়ের ব্যাপার।
সিলেট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার কুতুবউদ্দিন জানান, তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এরাইভাল ইমিগ্রেশনের (কাস্টমসের উপরের তলা) সার্ভার রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পূর্ণ নির্ধারণ করা না গেলেও প্রাথমিকভাবে প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।





