উদ্বেগজনক পর্যায়ে হামের প্রাদুর্ভাব, ১২৮ মৃত্যুর ৯২ ভাগ শিশু
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ৮:২৯:১৮ অপরাহ্ন
জালালাবাদ ডেস্ক: দীর্ঘদিন পর দেশজুড়ে হঠাৎ বাড়তে থাকা হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। রোগ শনাক্তে ধীরগতি এই উদ্বেগ আরও বাড়াচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। বেশিরভাগই উপসর্গ নিয়ে ‘সন্দেহজনক’ হামে প্রাণ হারাচ্ছে। আর মৃতদের মধ্যে ৯২ শতাংশই শিশু। এ অবস্থায় হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকার এরইমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ৫৬টি জেলায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। এর আওতায় ৩০টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কার্যক্রম জোরদার, হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। হামের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জনসাধারণকে জানাতে ইনফোগ্রাফিক ও জনসচেতনতামূলক প্রচারও চালানো হচ্ছে।
কিন্তু রোগী শনাক্ত ও আক্রান্তের সমন্বিত তথ্য না থাকায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। আর এর মধ্য দিয়েই আবারও সামনে এসেছে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা। একইসঙ্গে টিকাদান কর্মসূচির জন্য দাতা সংস্থার অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীলতা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ তা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচি চালু হওযার পর দেশে হামে মৃত্যুর সংখ্য ছিল না বললেই চলে। বিশেষ করে ২০২০ সাল থেকে দেশে হামে মৃত্যুর কোনো রেকর্ড নেই। হঠাৎ হামের প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ টিকাদান কর্মসূচির কভারেজ ধস। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮ সালে টিকাদানের হার ছিল ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০২২ সালে তা উঠে যায় ১০৩ দশমিক ৬ শতাংশে। ২০২৪ সালে নেমে আসে ৮৬ দশমিক ৬ শতাংশে। আর ২০২৫ সালে বড় ধস নেমে তা দাঁড়ায় ৫৯ দশমিক ৬ শতাংশ।
সরকারি হিসাবে ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মারা গেছেন ২১ জন, আর একই সময়ে ‘সন্দেহজনক হাম’ বা হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১২৮ জনের। এই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন জেলার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে—মৃতদের মধ্যে প্রায় ৯২ দশমিক ৮৬ শতাংশই শিশু, যাদের বড় একটি অংশের বয়স পাঁচ বছরের নিচে। এছাড়া হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন হাজারো রোগীর বেশিরভাগও শিশু হওয়ায় পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য বাড়তি সতর্কবার্তা দিচ্ছে।
৬ এপ্রিল পর্যন্ত রাজধানীর পাঁচটি হাসপাতালসহ ৬৪টি জেলায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া এবং চিকিৎসাধীন রোগীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মৃতদের মধ্যে প্রায় ৭২ শতাংশের বয়স শূন্য থেকে ৫ বছর এবং ১২ দশমিক ২৬ শতাংশের বয়স ৫ থেকে ১৮ বছর। বাকি ১৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক। আর সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন রোগীর মধ্যে বেশিরভাগই শিশু।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হাম উপসর্গে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এর মধ্যে নিশ্চিত হামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে ১ হাজার ২৩৬ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২২৪ জন।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা এক হাজার ২৩৬ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা নয় হাজার ৮৮৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২২৪ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ৩৯৮ জন। ১৫ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ছয় হাজার ৮৮৩ জন।
একই সময়ে সুস্থ হয়ে ছাড়া পেয়েছেন চার হাজার ৬৩৫ জন। মৃত্যুর হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে সবচেয়ে বেশি ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে।
একই সময়ে জেলার তালিকাতেও ঢাকায় সর্বোচ্চ ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে নিশ্চিত একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছে ১২৮ জনের।





