মৌলভীবাজারে হাওরে তলিয়ে গেছে ১৯০ হেক্টর বোরো ধান
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ৭:২০:২৮ অপরাহ্ন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের বৃহত্তম হাওর হাকালুকিতে ১’শ ৬২ হেক্টর বোরো জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়াও জেলার রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরে তলিয়ে গেছে আরও প্রায় ২৮ হেক্টর ফসলি জমি। আবারও যদি ধারাবাহিক বৃষ্টি ও উজান থেকে পানি নেমে আসে তবে হাওরের অনেক ধান তলিয়ে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে হাকালুকি হাওরে পাঁকা ধান কাটতে শুরু করেছেন কৃষকেরা।
জেলার জুড়ী ও কুলাউড়া উপজেলার ভুক্তভোগী কৃষকেরা জানান, গেল সপ্তাহে একটানা ভারী বৃষ্টি হলে হাওরের সঙ্গে যুক্ত জুড়ী’র কণ্ঠিনালা, গোগালিছড়া ও ফানাই নদী দিয়ে উজানের পাহাড়ি ঢলের পানি নামে। ফলে হাওরের উগলা ও হাসইরডিবি বিলে পানি ঢুকতে থাকলে বিলের ধানক্ষেত তলিয়ে যায়।
জুড়ী উপজেলার কৃষক শাহাব উদ্দিন জমির বলেন, হাওরের এক অংশে বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। উজানের ঢলে জমির কিনারার বাঁধ ভেঙ্গে পানি নেমে ফসলী জমি তলিয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টরা সতর্ক থাকার প্রয়োজন ছিল। তা না হলে বাঁধ এভাবে ভেঙ্গে যেত না। এদিকে রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওর’র রক্তা এলাকার এক কৃষক বলেন, বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কাউয়াদীঘি হাওরের কাটমা,উলাউলি,কাটারি ও মাটিকুরা বিলের ধারে প্রায় ২৮ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। মনূ প্রকল্পের অধিনে থাকা কাশিমপুর পাম্প হাউজ যদি সময় মত সেচ না করে তবে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হবে।
জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার পুরো জেলায় ৬২ হাজার ৪’শ হেক্টর জমি চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে জেলার কুরাউড়া’র হাকালুকি হাওর অংশে ১২ হেক্টও ও জুড়ী উপজেলায় আরও ১৫০ হেক্টর জমির ধান জলে তলিয়ে গিয়ে পুরোধমে নষ্ট হয়েছে। রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওলে অল্প ধান নষ্ট হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।
কুলাউড়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, এবার উপজেলার হাকালুকি হাওরসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় ৮ হাজার ৭০৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। আবারও যদি ভারী বৃষ্টি হয় তবে হাওর এলাকার জমিতে পানি প্রবেশ করতে পারে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে পানি দ্রুত নেমে যাবে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিল অলীদ বলেন, কাউয়াদীঘি হাওরের বোরা ধান রক্ষায় কাশিমপুর পাম্প হাউজ চালুসহ ব্যারেজ খুলে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ জালাল উদ্দিন বলেন, “মার্চ মাস থেকে ঘনঘন বৃষ্টি হওয়ায় কিছু ধান তলিয়ে গেছে। তবে হাকালুকি হাওরে ধান পাঁকায় পুরোধমে কাটা শুরু হয়েছে। কাউয়াদীঘি হাওরে কিছুটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।





