ইতিবাচক ধারায় ফিরছে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ৭:৫৯:৪২ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে সৃষ্টি হওয়া কূটনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে ফের ইতিবাচক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে বাংলাদেশ-ভারত আমদানি রপ্তানি বাণিজ্য| বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতের সঙ্গে সর্ম্পকের উন্নতি হওয়ায় দেশের সকল স্থল বন্দরের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্য ¯^াভাবিক কার্যক্রমে ফিরেছে|
জানা গেছে, ১৯৯৪ সাল থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চলে আসছে| এই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন হিমায়িত মাছ, পাথর, সিমেন্ট, রড, আটা, ময়দা ও ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি হয়| তবে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে গত বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে প্লাস্টিক ফার্নিচার, পিভিসি সামগ্রী, তুলা, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং ফলের জুসের মতো উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন পণ্যগুলোর রপ্তানি বন্ধ রয়েছে|
ব্যবসায়ীরা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল এই বন্দরে| ভারতের কিছু উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন সে দেশের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের পণ্য বর্জনের চাপ দেয়| এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের মে মাসে কয়েকটি পণ্য আমদানিতে ভারত সরকার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে আখাউড়া স্থলবন্দরের রপ্তানি আয় প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়|
এদিকে, ভারত থেকে পণ্য আমদানি অনিয়মিত হওয়ায় রাজ¯^ আয় কমেছে শুল্ক কর্তৃপক্ষেরও| বর্তমানে যেসব পণ্য আমদানির অনুমতি রয়েছে, তার বেশিরভাগই ত্রিপুরার বাইরে থেকে আনতে হয়| ফলে উচ্চ পরিবহন ব্যয়ের কারণে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা না হওয়ায় আমদানিতে অনীহা দেখাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা| তাদের দাবি, নিষিদ্ধ পণ্য ব্যতিত সব ধরনের পণ্য আমদানির অনুমতি দেওয়া হলে স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে|
আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের গত মার্চ পর্যন্ত এই বন্দর দিয়ে ৪৩৭ কোটি ১৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছে| একই সময়ে ভারত থেকে আমদানি হয়েছে মাত্র ১ কোটি ৯৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকার পণ্য (চাল, জিরা ও আগরবাতি), যা থেকে সরকার ৭১ লাখ ৩২ হাজার টাকা রাজ¯^ পেয়েছে| উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতে ৫১৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার পণ্য রপ্তানি এবং ৭ কোটি ৩১ লাখ টাকার পণ্য আমদানি হয়েছিল|
শুধু আখাউড়া স্থল বন্দরই নয়, বেনাপোল স্থল বন্দরসহ দেশের সবক’টি কন্দর দিয়েই আমদানি রপ্তানি বাণিজ্য ¯^াভাবিক হয়েছে| ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্পর্কের তিক্ততা কমতে শুরু করায় ব্যবসায়ীরা এখন ভারতের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে আলোচনার দাবি তুলেছেন|
আখাউড়া স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী রাজীব ভূঁইয়া বলেন, অভ্যুত্থানের পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের যে টানাপোড়েন চলছিল, তা এখন অনেকটাই কমেছে| এর ফলে ধীরে ধীরে পণ্য রপ্তানি বাড়ছে| তবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা পণ্যগুলো পুনরায় রপ্তানির অনুমোদন পেলে সামগ্রিকভাবে রপ্তানি আয় আরও বাড়বে| এতে ব্যবসায়ীরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি সরকারেরও বিপুল ˆবদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে|
আখাউড়া স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নিছার উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, আমরা ভারতে নতুন কিছু পণ্য রপ্তানির চেষ্টা করছি এবং এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা চলছে| এছাড়া যদি আমাদের সব পণ্য আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়, তবে বন্দর দিয়ে পুনরায় আমদানি শুরু হবে এবং সরকারের রাজ¯^ আয় বৃদ্ধি পাবে|
আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার কাজী আল মাসুম বলেন, আমদানি-রপ্তানি বাড়াতে আমরা ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে আসছি| যেসব পণ্যের ওপর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আছে, সেগুলো আগে বড় পরিমাণে রপ্তানি হতো| ব্যবসায়ীদের এই দাবির বিষয়টি আমরা জাতীয় রাজ¯^ বোর্ডকে (এনবিআর) লিখিতভাবে জানিয়েছি| আশা করা যাচ্ছে, দুই দেশের সরকারের আলোচনার মাধ্যমে অচিরেই এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হবে|





