দিনভর বৃষ্টিতে ভোগান্তি: সিলেটের নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ৮:১৭:২৮ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার: বৈশাখের শুরুতেই সিলেটে তীব্র ঝড়-বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার তা-বে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনভর থেমে থেমে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত, ঝড়ো হাওয়ায় নগর ও গ্রামীণ এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক দুর্ভোগ। আগামী দুইদিন আবহাওয়ার তেমন কোনো উন্নতি হবে না বলে আভাস দিয়েছে সিলেটের আবহাওয়া অফিস।
আজ সোমবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৩৬ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এছাড়া সোমবার সকাল ১১ টা থেকে পর পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট বিভাগের উপর দিয়ে বিদ্যুৎ চমকানোসহ ঘণ্টায় ৬০-৮০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেত পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক এসব তথ্য জানান।
এদিকে সোমবার সকাল থেকেই আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় বৃষ্টি, যা সময়ের সঙ্গে রূপ নেয় ভারী বর্ষণে। দুপুরের পর থেকে মাঝে মাঝে দমকা হাওয়াসহ বজ্রপাত পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। এতে নগরের নিচু এলাকার সড়কগুলোতে পানি জমে যান চলাচলে বিঘœ ঘটে এবং শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষ পড়েন চরম ভোগান্তিতে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষ করে সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
এদিকে, বৃষ্টির কারণে নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের খানাখন্দ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নাজুক হওয়ার কারণে অনেক স্থানে পানি জমে পথচারীদের চলাচল কষ্টকর হয়ে ওঠে। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও দিনমজুরদের দুর্ভোগ ছিল চোখে পড়ার মতো।
নগরের দাড়িয়াপাড়া, তালতলা ও উপশহরসহ কয়েকটি নিচু এলাকার সড়কগুলোতে বৃষ্টির পানি জমে থাকতে দেখা যায়।
দাড়িয়াপাড়ার বাসিন্দা রফিক মিয়া বলেন, ‘রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমে থাকে। সড়কের পাশে ময়লা আবর্জনা ও বৃষ্টির পানি মিলেমিশে একাকার। রাস্তায় চলাচলে খুব অসুবিধা হয়।’
গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় জল্লারপাড় মোড়ে কথা হয় রিকশা চালক সাদেক আলী (৫৬)-এর সঙ্গে। তিনি জানান, সারাদিন ঝড়-তুফান আর বৃষ্টির কারণে ঘর থেকে বের হতে পারেননি। বিকেলে বের হয়েছেন পেটের দায়ে। কিন্তু রাস্তায় প্যাসেঞ্জার কম। তাই প্যাসেঞ্জারের আশায় এখানে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। এসময় তিনি পকেট থেকে কিছু খুচরা টাকা বের করে বলেন, ‘এখনও দুইশ টাকাও ইনকাম করতে পারিনি।’
গ্রামীণ এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। ঝড়ো হাওয়ায় ফসলের ক্ষতি এবং কাঁচা ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অনেক স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘিœত হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে সুরমা, কুশিয়ারা, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি আগামী কয়েক দিনে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েকদিনের তীব্র গরমে বৈশাখি এই ঝড়-বৃষ্টি সাময়িক স্বস্তি দিলেও তা জনজীবনে বড় ধরনের ভোগান্তি ডেকে এনেছে। একই সঙ্গে আগামী কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।





