ওসমানীনগরে সরকারি ভূমিতে অবৈধ স্থাপনায় ক্যারম গাফলা খেলার আসর!
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৩২:৩৮ অপরাহ্ন

ওসমানীনগর প্রতিনিধি: ওসমানীনগরে ¯ে^চ্ছাসেবক দল নেতা মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে সরকারি ভূমির উপর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে যাত্রী ছাউনিতে ক্যারম বোর্ড ও গাফলা খেলার আসর বসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে| জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য নির্মিত সরকারি যাত্রী ছাউনিতে দিনভর ক্যারম বোর্ডের আসর ও পাশের সরকারি ভূমিতে ঘর বানিয়ে চায়ের দোকানে গাফলা খেলার আসর বসায় এলাকার কোমলমতি ছেলেরা এসব খেলার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন| বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে এ স্থানটি এক ¯ে^চ্ছাসেবক লীগ নেতার দখলে ছিল আর বর্তমানে স্থানটি গিয়েছে ¯ে^চ্ছাসেবক দল নেতার দখলে| স্থানীয় লোকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট মৌখিক অভিযোগ দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খসরুপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদারকে ঘটনাস্থলে পাঠান এবং তহশিলদার বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন বলে জানা গেছে|
জানা যায়, কিছুদিন পূর্বে সাদীপুর ইউপি ¯ে^চ্ছাসেবক দলের সদস্য সচীব মানিক মিয়া ইউনিয়নের খসরুপুর বাজারে কুশিয়ারা নদীর তীরে সরকারি ভূমির উপর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু করেন| বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান| উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষটি তদন্ত করতে খসরুপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার নাজমিনকে দায়িত্ব দিলে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন| কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন ˆতরি ও দাখিলের মাঝেই মানিক মিয়া স্থাপনা নির্মাণ সম্পন্ন করে ক্যারম ও গাফলার আসর বসিয়ে মানিক কুঁড়ানো শুরু করেছেন| নতুন করে আবার যাত্রী ছাউনি দখল করে ক্যারম খেলার আসর বসানোয় এলাকার সাধারণ যাত্রীরা এবং স্কুল কলেজ মাদ&রাসার শিক্ষার্থীরা যাত্রী ছাউনিটি ব্যবহার করতে পারছে না|
স্থানীয় ইউপি সদস্য এসাম উদ্দিন বলেন, যাত্রী ছাউনির পাশে ঘর দরজা বানিয়ে খেলা চলছে| বাধা দিয়েতো কাজ হয়না| খসরুপুর বাজার পরিচালনা আহবায়ক কমিটির সদস্য তনয় কুমার পাল বলেন, ইতোপূর্বে এখানে খেলা বন্ধের জন্য নিষেধ করা হলে খেলা বন্ধ হয়| ইদানীং আবার শুরু হয়েছে| এরাতো নিষেধ মানেনা|
সাদীপুর ইউপি ¯ে^চ্ছাসেবক দলের সদস্য সচীব মানিক মিয়া বলেন, আমি দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কিছু করিনি| সরকারি জায়গায় একটি চায়ের দোকান দিয়েছি| গাফলা খেলা দিয়েছি কাস্টমার বসার জন্য| খেলার আসর থেকে কোন টাকা নেইনি| ক্যারম খেলা আমার ভাই চালায়, সে প্রতি বোর্ড থেকে ২০ টাকা করে নেয়| এখানেতো ১৭/১৮ বছর ধরে এ খেলা চলছে| আগেতো কোন সমস্যা হয়নি| তাছাড়া বাজারে সরকারি জায়গায় ৭০/৭৫টি দোকান আছে, সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক|
খসরুপুর ভূমি অফিসের তহশিলদার নাজমিন বলেন, আমি বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি, বাকি সিদ্ধান্ত ইউএনও নেবেন| ওসমানীনগর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. মুর্শেদুল আলম ভূইয়া বলেন, ক্যারম এবং গাফলার নামে যদি কোন আসর বনানো হয় তবে এটা সহ্য করা হবেনা| যাত্রী ছাউনিতে এরকম ক্যারম গাফলা খেলা হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে| উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা এর সরকারি মোবাইলে বার বার কল দিলে তিনি কল রিসিভ করেননি|
উল্লেখ্য বিগত সরকারের সময়ে এই স্থান ও যাত্রী ছাউনিটি দখল করে অবৈধ ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে গেল বছরের ১৬ জুলাই তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে এলাকাবাসি একটি অভিযোগ দায়ের করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করে দেন| বতর্মান নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসলে নতুন করে আবার এখানে অবৈধ ব্যবসা শুরু হয়েছে|





