জকিগঞ্জে ভারত থেকে আনা সন্তানদের জন্মসনদ নিয়ে বিরোধ, সংঘর্ষ
প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ মে ২০২৬, ৮:০২:২৫ অপরাহ্ন
জকিগঞ্জ প্রতিনিধি: সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় ভারতীয় সংসারের দুই সন্তানকে নিজের ও প্রথম স্ত্রীর সন্তান পরিচয়ে জন্মসনদ করে দেওয়ার চাপকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূ ও তাঁর সন্তানদের মারধর এবং ঘরে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। আহতদের মধ্যে এক তরুণীকে গুরুতর অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করে বলেন, প্রায় ২৫ বছর আগে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী আব্দুল মালেক নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী খোরপোষ না দিয়ে বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন চালাতেন। সংসারের খরচ ও সন্তানদের দায়িত্বও দীর্ঘদিন ধরে তাঁকেই বহন করতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কয়েক বছর আগে আব্দুল মালেক ভারতে চলে যান। সেখানে অবস্থানকালে তিনি আরেকটি বিয়ে করেন এবং ওই সংসারে তাঁর দুই সন্তান জন্ম নেয়। সম্প্রতি তিনি ভারতের ওই সংসারের দুই সন্তানকে নিয়ে দেশে ফেরেন। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সন্তান দুটিকে নিজের ও প্রথম স্ত্রীর সন্তান পরিচয়ে জন্মসনদ করে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী রাজি না হলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, তাঁর স্বামী ভারতে বিয়ে করার পর আরও একটি বিয়ে করেছেন। বিষয়টি নিয়ে পরিবারে উত্তেজনা তৈরি হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত ৭ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে আব্দুল মালেক তাঁর তৃতীয় স্ত্রী মাজেদা আক্তারসহ কয়েকজনকে নিয়ে বাড়িতে আসেন। নতুন স্ত্রীকে ঘরে তোলাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে আব্দুল মালেক ও তাঁর সহযোগীরা লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে গৃহবধূ ও তাঁর সন্তানদের ওপর হামলা চালান।
এ সময় মাহফুজা জান্নাত তারিন, তানজিদ আহমদ, তাহমিদ আহমদ ও তাবাসসুম আক্তার আহত হন। পরিবারের অভিযোগ, হামলার পর তাঁদের ঘরের ভেতরে আটকে রাখা হয় যাতে কেউ বাইরে গিয়ে সাহায্য চাইতে না পারেন। পরে কোনোভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে জকিগঞ্জ থানা-পুলিশ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে।
উদ্ধারের পর আহতদের জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক গুরুতর আহত মাহফুজা জান্নাত তারিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পারিবারিক বিরোধের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে ওই নারী ও তাঁর সন্তানরা নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





