হামে আড়াই দশকের সর্বোচ্চ সংক্রমণ : সিলেটে আরো ৩ শিশুসহ ৪৩২ মৃত্যু
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ মে ২০২৬, ৩:০৫:১৫ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : দেশে হামের আড়াই দশকের সর্বোচ্চ সংক্রমণ হয়েছে। হাম ও হামের উপসর্গে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৮ শিশু মারা গেছে, এরমধ্যে সিলেটের ৩ শিশুও রয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৪৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর আক্রান্ত ছাড়িয়েছে ৫৩ হাজার।
সবশেষে মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে চট্টগ্রামে মৃত্যু হয়েছে ১ জনের, ময়মনসিংহে ২ জনের ও সিলেটে ৩ জনের। আর নিশ্চিত হামে মারা যাওয়া শিশুটি বরিশালের। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে সারা দেশে আরও ১ হাজার ৪৮৯ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ১ হাজার ১৭৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ৫৩ হাজার ৫৬। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩৬৩ জনের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগী শনাক্তের সংখ্যা ১২৬। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ৭ হাজার ১৫০ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৬৯ জনের।
১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৮ হাজার ৫৪ শিশু। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৩৩ হাজার ৮৩ শিশু।
সিলেটে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু :
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শেষ ২৪ ঘণ্টায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকলে কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। বুধবার বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সর্বশেষ এ তথ্য জানিয়েছে।
মারা যাওয়া তিন শিশুর মধ্যে একজনের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় ও অন্য দুইজনের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলায়। এ নিয়ে চলতি বছরে সিলেটে হাম ও হামের উপসর্গে মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে।
স্বাস্থ্য বিভাগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময় ল্যাব পরীক্ষায় কারো হাম শনাক্ত না হলেও উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ৯২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
সব মিলিয়ে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২১৭ জন। সবচেয়ে বেশি রোগী রয়েছে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। সেখানে ভর্তি আছেন ১১০ জন। আর সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৫০ জন।
বুধবার সকাল পর্যন্ত সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৪৭। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৩ জন শনাক্ত হয়েছেন সুনামগঞ্জে।
আড়াই দশকে সর্বোচ্চ সংক্রমণ :
গত আড়াই দশকে কখনো দেশে হামের সংক্রমণ ৫০ হাজার ছাড়ায়নি। এর আগে হামের সর্বাধিক রোগী পাওয়া গিয়েছিল ২০০৫ সালে, ২৫ হাজার ৯৩৪ জন। এর পর থেকে রোগী কমে আসে। ২০২৫ সালে মাত্র ১৩২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। আগের পাঁচ বছরের (২০২০ থেকে ২০২৪) রোগীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২ হাজার ৪১০, ২০৩, ৩১১, ২৮১ ও ২৪৭।
বাংলাদেশ হাম নির্মূলের পথেই হাঁটার মধ্যে এ বছরের শুরুতে এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় এবং একের পর এক শিশুর মৃত্যুও ঘটত থাকে। এ সংক্রমণের পেছনে গত বছর হামের পর্যাপ্ত টিকা না দেওয়াকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি পুষ্টির ঘাটতিকেও কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক বে-নজীর আহমেদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকা যথাযথভাবে না দিতে পারার জন্যই হামে এত সংক্রমণ ও মৃত্যু। তবে মৃত্যুর দায় বর্তমান সরকারকেও নিতে হবে। তিনি বলেন, সরকার হামকে মহামারি ঘোষণা করতে দ্বিধা করে। কিন্তু রোগীর সংখ্যা যখন ৫০ হাজারের অতিরিক্ত হয়, তখন তাকে মহামারি না বলার কোনো কারণ নেই। এটা করা গেলে, হামকে স্বাস্থ্য জরুরী অবস্থা ঘোষণা করা হলে ন্যাশনালে গাইডলাইন দিয়ে চিকিৎসা করা যেত, তাহলে এত মৃত্যু হতো না।





