উর্ধ্বমূখী নিত্যপণ্য চাপে ক্রেতারা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ মে ২০২৬, ১:৩০:০৯ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটের বাজারে আবারও বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম। সবজি, ডিম, ব্রয়লার মুরগি, পেঁয়াজ, আদা, ডাল ও সয়াবিন তেলের দামে নতুন করে উর্ধ্বমুখী হয়েছে। এতে চাপ তৈরি হয়েছে সাধারণ ক্রেতার ওপর।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, অসময়ের ভারী বৃষ্টি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়াই দাম বাড়ার প্রধান কারণ। টানা মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা। বাজারে গিয়ে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
শুক্রবার বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহে বেশ কয়েকটি সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। শসার দাম সবচেয়ে বেশি বেড়ে এখন কেজিতে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বেগুন, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল, টমেটো, কাঁচা মরিচ ও পেঁপের দামও বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, ভারী বৃষ্টির কারণে মাঠ থেকে ঠিকমতো সবজি তোলা যাচ্ছে না। ফলে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে।
চলতি সপ্তাহে দাম বৃদ্ধির তালিকায় যুক্ত হয়েছে পেঁয়াজ ও আদা। ব্যবসায়ীরা জানান, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১০/১৫ টাকা বেড়েছে। একইভাবে আদার দামও বেড়েছে কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি আদা বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৯০ টাকায়।
বাজার করতে আসা চাকরিজীবী শাকিল মিয়া বলেন, প্রতিদিনই কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ছে। এতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
ডিম ও মুরগির বাজারেও অস্থিরতা দেখা গেছে। এক মাস আগেও প্রতি হালি ডিম ৪০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ৪৫ থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই দশকে ডিমের হালির দাম ১২ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে ৫৫ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা কেজিতে, যা মাসখানেক আগে ছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা।
মুদি পণ্যের মধ্যেও বেড়েছে চিনি, মসুর ডাল ও পোলাও চালের দাম। খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকা কেজিতে। মোটা মসুর ডালের দাম বেড়ে হয়েছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকা। প্যাকেটজাত পোলাও চালের কেজি এখন ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে সরকার সম্প্রতি বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়েছে। নতুন দরে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২০৫ টাকায়। তবে দাম বাড়লেও বাজারে এখনো সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে ক্রেতাদের।
ব্যবসায়ীদের দাবি, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর সবজি পরিবহনে ট্রাক ভাড়া কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তার সঙ্গে টানা বৃষ্টির কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, বাজার তদারকি দুর্বল হওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিয়ে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
বন্দর বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বলেন, দাম বৃদ্ধির প্রভাব যে শুধু ক্রেতার উপর পড়ে তা নয়, এটি ব্যবসায়ীদের উপরও পড়ে। তিনি বাজার মনিটরিং কঠোরভাবে করা উচিত বলে মনে করেন।
নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের বলেন, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে অস্বাভাবিক হারে। তদারকি সংস্থাগুলোও এক প্রকার নিশ্চুপ থাকছে। মনে হচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীদের ক্রেতার পকেট কাটতে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষের ত্রাহি অবস্থা। এ পরিস্থিতিতে বাজারে সরকারের নজরদারি জরুরী বলে তিনিও মনে করেন।





