জ্যৈষ্ঠে এলোমেলো আবহাওয়া
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ মে ২০২৬, ৩:০৩:২৮ অপরাহ্ন
দক্ষিণে তাপপ্রবাহ, উত্তরে বৃষ্টি
জালালাবাদ রিপোর্ট : জ্যৈষ্ঠের শুরুতেই দেশের আবহাওয়া অনেকটা এলোমেলো। বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলে রংপুর বিভাগে ঝরছে ভারী বৃষ্টি, সঙ্গে বয়ে যাচ্ছে কালবৈশাখী। আর দক্ষিণে পুরো খুলনা বিভাগসহ ১৩টি জেলায় বয়ে যাচ্ছে মৃদু তাপপ্রবাহ।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বাংলাদেশের আবহাওয়া বদলে যাচ্ছে। ঋতুচক্র স্বাভাবিক থাকছে না। শীতকাল ছোট হয়ে আসছে, কিন্তু শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। গ্রীষ্মকাল দীর্ঘ হচ্ছে, তাপমাত্রা বাড়ছে। বর্ষার আগেই বৃষ্টি ঝরছে, আবার কম সময়ে বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। দেখা দিচ্ছে আকস্মিক বন্যা। আবার দেশের কোথাও খরা হচ্ছে, মাটি শুকিয়ে যাচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো একই সময়ে দুই ধরনের চরম আবহাওয়া দেখা দেওয়া। একদিকে দীর্ঘ তাপপ্রবাহ ও খরা, অন্যদিকে স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যা। ২০২৪ সালেও দেখা গেছে, গ্রীষ্মজুড়ে ভয়াবহ তাপপ্রবাহের পর বর্ষাকালে অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যা হয়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে বৃষ্টি হলে তা অল্প সময়ের মধ্যে অনেক বেশি পরিমাণে ঝরে পড়ছে। একই সময়ে তাপমাত্রাও বাড়ছে। ফলে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের শনিবার সকালের পূর্বাভাস থেকে জানা গেছে, শনিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোর জেলায় ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। খুলনা বিভাগের অন্যান্য জেলায় তাপমাত্রা ছিল ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
মৃদু এই তাপপ্রবাহ আজও অব্যাহত থাকতে পারে উল্লেখ করে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মাদারীপুর, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর জেলাসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
অন্যদিকে, সিলেটে শনিবারের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াস, আর সর্বনিম্ন ছিলো ২০ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এছাড়া ১২ ঘন্টায় সিলেটে বৃষ্টি হয়েছে ২৯ মিলিমিটার।
এদিকে, বঙ্গোপসাগরে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি একই এলাকায় অবস্থান করছে। অপর একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।
এদিকে রংপুর বিভাগসহ দেশের উত্তরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সারা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলায়। এ ছাড়া রংপুরে ৫১, নরসিংদীতে ৪৬, কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ২১, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লায় ২৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজও রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। আগামী পাঁচ দিন দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) মহাপরিচালক ড. শরিফুল হক ভূঞা বলেন, ‘এল নিনো আবহাওয়ার ধরন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আমরাও সেই ধরনে প্রবেশ করেছি। তবে, এল নিনো ও লা নিনা এবং বাংলাদেশে এর প্রভাব নিয়ে কোনো বিশ্লেষণ নেই। প্রায় প্রতি বছরই তাপপ্রবাহ ও খরার মতো ঘটনা ঘটছে। এখানে সামগ্রিক তাপমাত্রা বাড়ছে, শীতকাল সংক্ষিপ্ত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত যথা নিয়মে হচ্ছে না এবং প্রয়োজনের সময় আমরা বৃষ্টি পাই না। আমরা যদি জলবায়ুসহিষ্ণু ফসল উদ্ভাবন করতে না পারি, তাহলে সমস্যায় পড়ব।
তিনি বলেন, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চল বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ধান উৎপাদন এলাকা। কিন্তু জলবায়ুর পরিবর্তনে এই অঞ্চল এখন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের একটিতে পরিণত হয়েছে।





