ঈদ ঘিরে রাস্তা ও ফুটপাত দখলের পাঁয়তারা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ মে ২০২৬, ৯:৪২:২৮ অপরাহ্ন
ভাতের তালা হাতে রাস্তা অবরোধ
করে হকারদের বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার : বিশেষ সুযোগে মানবিকতার দোহাই দিয়ে রাস্তায় ও ফুটপাতে নামেন হকাররা। এরপর আর তাদেরকে তুলে দেয়া যায়না। এভাবেই যুগের পর যুগ ধরে সিলেটের রাস্তা ও ফুটপাত দখলে রাখছেন হকাররা। হকার পুনর্বাসনে সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও প্রশাসন বার বার উদ্যোগ নিলেও রাস্তা ও ফুটপাতের দিকেই ছুটেন তারা।
এবারও সেই পুরনো পথে ছুটছেন সিলেটের হকাররা। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বিকেল ৫টা থেকে ফুটপাতে বসার অনুমতির দাবিতে ভাতের তালা হাতে বিক্ষোভে নেমেছেন তারা। রোববার দুপুরে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান ফটকের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। এতে নগরের বিভিন্ন এলাকার শতাধিক হকার অংশ নেন। এসময় বিক্ষোভকারীদের হাতে ভাতের থালার পাশাপাশি। বিভিন্ন দাবী সম্বলিত প্ল্যাকার্ডও শোভা পাচ্ছিল।
এসময় হকাররা বলেন, সারাদিন ব্যবসা করতে না পারলেও অন্তত বিকেল ৫টার পর ফুটপাতে বসে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ দিতে হবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে ফুটপাতের ব্যবসাই অনেক পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। অভিযানের নামে ‘পুলিশি নির্যাতন’ ও মালামাল জব্দের অমানবিক কর্মকান্ড বন্ধের দাবি জানান তারা। উচ্ছেদ অভিযানে প্রায়ই হকারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়, যা মানবিক নয়।
হকাররা আরও বলেন, কর্মসংস্থানের বিকল্প ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম সংকটে পড়বেন। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফুটপাতে ব্যবসার অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানান তারা। ঘণ্টাব্যাপী এঅবস্থান কর্মসূচি চললেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হকাররা সিটি করপোরেশনের ফটকের সামনে অবস্থান করছিলেন। তখন আশেপাশে রাস্তায় দেখা দেয় তীব্র যানজট। এর আগে গত ১৪ মে একই দাবিতে নগরে বিক্ষোভ মিছিল করেন হকাররা।
সেদিনের কর্মসুচীতে হকাররা বলেছিলেন, আমাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। যতক্ষণ পর্যন্ত কোন ফয়সালা না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে। সামনে ঈদুল আজহা আসছে। এসময় আমাদেরকে বিকাল ৫টা থেকে ফুটপাতে ব্যবসা করার অনুমতি দেওয়া হোক। আমরা চাই না কোন আন্দোলন করতে। কিন্তু কোন প্রতিকার না পাওয়ায় আমাদেরকে রাজপথে থাকতে হচ্ছে। আমরা প্রত্যাশা করি, বৈষম্যহীন এ বাংলায় আমাদের ওপর বৈষম্য না করে বিকেল ৫টার পর সরকারি অফিস-আদালত বন্ধের পর ব্যবসার সুযোগ দিবে প্রশাসন।
এদিকে হকারদের এই ধরণের অনৈতিক দাবীর প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাধারণ নাগরিকরা। তারা বলছেন, সরকার কোটি টাকা খরচ করে শুধু গুটি কয়েক হকারদের ব্যবসার জন্য ফুটপাত তৈরী করেনা। এই ফুটপাতে সকল নাগরিকের অধিকার সমান রয়েছে। হকাররা অনৈতিক দাবীর মাধ্যমে ফুটপাত দখল করে ব্যবসার মাধ্যমে নাগরিকের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। নগরজুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। ঈদ উপলক্ষে নগরীতে ক্রেতার সাথে যানবাহনও বেড়ে যায়। তখন এমনিতেই যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। এই সময়ে হকাররা ফুটপাতে নামলে যানজট পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটতে পারে।
বন্দরবাজারের পথচারী আব্দুর রহীম ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, হকারদের জন্য আলাদা জায়গা দেয়া হয়েছে তারা সেখানে ব্যবসা করবে। কিন্তু ঈদকে পুঁজি করে ফের রাস্তা ও ফুটপাতে দখলে নামতে চায় তারা। ফুটপাত ও রাস্তা হকারমুক্ত রাখতে সরকার ও প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানান তিনি।
এ ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী দৈনিক জালালাবাদকে বলেন, এই ধরনের আন্দোলন অযৌক্তিক। ফুটপাতে কাউকে বসতে দেয়া হবেনা। যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে। হকারদের ব্যবসা করতে হলে লালদীঘিরপাড়েই যেতে হবে। তাদের জন্য বিকল্প কোন পথ খোলা নেই।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী দৈনিক জালালাবাদকে বলেন, ফুটপাত কিংবা রাস্তায় কেউ বসে ব্যবসা করতে চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া অযৌক্তিক দাবীতে নগরীতে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হলে সেটিও আইনগতভাবে মোকাবেলা করা হবে।





