সিলেটে ঈদ ছুটির ৫ দিনে হামে ৫ শিশুর মৃত্যু
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ জুন ২০২৬, ১২:১০:১৬ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটে ঈদুল আযহার ছুটিতে ৫ দিনে হাম উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ২৬ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সময়ে চিকিৎসাধিন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এরমধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে ৩ ও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ জন মারা যান। এনিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ জনে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে কোনও শিশুর মৃত্যু না হলেও এই সময়ে উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৯ জন।
রোববার (৩১ মে) এর সত্যতা নিশ্চিত করেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোঃ মাহবুবুল আলম।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় সিলেট বিভাগে হাম উপসর্গে কারো মৃত্যু হয়নি। এই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায়ও কারো হাম শনাক্ত হয়নি। তবে এই সময়ে উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৯ জন।
এদিকে বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ২৬৫ জন রোগী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২৬ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত ৫ দিনে ঈদের ছুটি চলাকালে হাম উপসর্গ নিয়ে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ মে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে মারা যায় ৫ মাস বয়সী আব্দুল্লাহ আল জায়ান। সে সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার ওসমানীনগর এলাকার বাসিন্দা।
২৮ মে শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে মারা যায় সুনামগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার বুড়িস্থল এলাকার ৬ মাস বয়সী নুসাইফা। ২৯ মে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার ৯ মাস বয়সী আরিম। ৩০ মে ওসমানী মেডিকেলে মারা যায় সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার ৬ মাস বয়সী আরিফা ও একই দিনে শামসুদ্দিন হাসপাতালে মারা যায় সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার ৮ মাস বয়সী আব্দুল্লাহ আল মাহিন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বিভাগে হামে ও উপসর্গে মারা গেছেন ৬০ শিশু। এর মধ্যে ৪ জনের হাম নিশ্চিত হলেও বাকী ৫৬ জন উপসর্গে মারা যান। এদিকে বিভাগে এখন পর্যন্ত ১৬৫ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৬ জন সুনামগঞ্জ জেলার, সিলেটের ৪২, হবিগঞ্জের ২১ ও মৌলভীবাজারের ১৬।
বর্তমানে সিলেট বিভাগে হাসপাতালে ভর্তিকৃত সন্দেহজনক ২৬৫ রোগীর মধ্যে- সর্বোচ্চ ১০৬ জন ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে, ৬৭ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে, ২ জন উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতালে, ৩ জন লায়ন্স শিশু হাসপাতালে, ১৭ জন রাগীব রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে, ২ জন আলহারামাইন হাসপাতালে, ৩ জন মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে, ৫ জন নর্থ ইস্ট হাসপাতালে, ৪ জন পার্কভিউ মেডিকেল হাসপাতালে, ১ জন দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ৩ জন শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ২২ জন সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে, ১ জন দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ১৮ জন হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ও ১১ জন মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।





